চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক টমটম চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনার পর এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহতের নাম নুরুল কবির (৩৫)। তিনি টমটম চালক ছিলেন। হামলায় নিহতের মা মমতাজ বেগম (৫৫) ও ভাই জানে আলম (৩০), মো. আলম (২৫) এবং মো. আবছার (৩৫) গুরুতর জখম হয়েছেন।এর আগে, একইদিন বিকেলে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছড়ারকুল সুয়ার বাপের বাড়ি এলাকায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, আব্দুল মজিদ নামের এক প্রতিবেশী দীর্ঘদিন ধরে নুরুল কবিরদের বাড়ির পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ওই বাউন্ডারির জায়গাজুড়ে ছিল নুরুল কবিরদের ব্যবহৃত টয়লেট ও বসার রাস্তা। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেও একাধিকবার কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নুরুল কবির গত ৩১ আগস্ট সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মজিদ ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে।শনিবার বিকেলের দিকে মজিদ ও তার ছেলেরা আবারও ওই বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ শুরু করে। নুরুল কবির ও তার পরিবার বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হঠাৎ করেই মজিদ ও তার ছেলেরা ধারালো দা নিয়ে নুরুল কবিরের ওপর হামলে পড়ে। একের পর এক কোপ পড়ে তার মাথা ও শরীরে। রক্তে ভিজে যায় মাটির উঠান। নুরুল কবিরকে বাঁচাতে গেলে তার মা মমতাজ বেগম ও ভাই জানে আলম, মো. আলম এবং মো. আবছারকেও দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের কান্না-চিৎকারে এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে নুরুল কবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।নিহতের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বাউন্ডারি তুলতে চাইলে আমার ছেলে বাধা দেয়। তখন মজিদ আর তার ছেলেরা দা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমার ছেলের মাথায় কোপ মারে। আমরাও মার খাই।’সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তদন্ত চলছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
