চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ১০ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ রোগীদের নিয়ে স্বজনদের পড়তে হয় বিপাকে। এ সাঁকোতে প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ছাড়া স্থানীদের দাবি, সেতুটি না হওয়াতে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভালো পরিবারে বিয়ে হচ্ছে না।দীর্ঘদিন ধরে স্থানটিতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হযরত আজু শাহ (রঃ) মাজারের পাশে বয়ে চলা সরই খালের ওপরে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রয়েছে বাঁশের এ সাঁকোটি।ব্রিজ নির্মিত হলে পাল্টে যাবে উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্হান, খালভাঙ্গা, নতুনপাড়া, সরাইয়া, রামবিলা, মন্দুলার চর, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা, পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার কিল্লাখোলা গ্রামের মানুষের জীবনমান।সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বাঁশ সংগ্রহ করে সরই খালের ওপর নির্মাণ করা হয় প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো। নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছরই গ্রামবাসী বাঁশ সংগ্রহ করে নিজেরাই মেরামত করেন সাঁকোটি। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষকে পারাপার হতে হয়। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারী, রোগী ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধিরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা পাওয়া যায় না। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস দিয়ে গেলেও সেতু নির্মাণে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি কেউ। সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের ভালো পরিবারে বিয়ে হয় না। তাই সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরই খালের ওপর বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় বাসিন্দা ফৌজুল কবির বলেন, গ্রামগুলো কৃষিনির্ভর। নানা রকমের কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ার কারণে কৃষিপণ্যের সঠিক দাম পাওয়া যায় না। একটি সেতুর কারণে ওই সব গ্রামে তেমন কোনো উন্নয়নও হয়নি। গ্রামগুলো এখনো অবহেলিত। কোনো রকমে যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে বাঁশের দীর্ঘ সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন।গৌড়স্হান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদুল ইসলাম জানান, এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যেতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য এটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ, তাই অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে চান না। বর্ষাকালে আমরা বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। তাই এখানে অতিদ্রুত একটি সেতু দরকার।উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনির বলেন, জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ওই স্থানে ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাব পাস হলে সেখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল বলেন, বাঁশের সাঁকোর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরাবর বহু আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না। খালের দুই পাড়ের অন্তত ৫ হাজার মানুষ সাঁকো নিয়ে সমস্যায় আছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই ডিজিটাল যুগেও এখানকার মানুষ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল, এটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। ওই স্থানে সাঁকোর বিকল্প একটি পাকা সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আগে নজরে আসে নি, এখন যেহেতু নজরে এসেছে, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
