ভোলায় এক আদম ব্যবসায়ীর অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন ইমন (১৮) নামের এক যুবক। তিনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল অহিদ মিয়ার ছেলে।অভিযুক্ত ওই আদম ব্যবসায়ীর নাম আ. রহিম ওরফে রনি। তিনি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালিমুল্লাহ মিয়ার ছেলে। গেল কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসে বিদেশে জনবল পাঠানোর এই অভিনব প্রতারণা করছেন তিনি। এই কাজে তাকে তার চাচাতো ভাই মনির সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে, গেল তিন মাস আগে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উচ্চ বেতনে সৌদি আরবে পেট্রোল পাম্পে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ইমনকে সৌদিতে পাঠান আ. রহিম। সৌদি আরবে যাওয়ার তিন মাস পূর্ণ হলেও এখনো তাকে কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে নানান রকম তালবাহানা করছেন রহিম। পাত্তা দিচ্ছেন না ভুক্তভোগী ইমনের পরিবারকে। ধার দেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে সর্বস্বান্ত পরিবার।ইমনের মা নাজমা বেগম জানান, ‘রহিম আমার ছেলেকে সৌদিতে পেট্রোল পাম্পে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাদের থেকে ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। আমরা তার কথা মত সব টাকা দিয়ে ইমনকে সৌদিতে পাঠিয়েছি। কিন্তু, ইমন সৌদি আরব যাওয়ার পর তাকে পেট্রোল পাম্পে চাকরি না দিয়ে আমাদের সঙ্গে তালবাহানা করছেন। এরপর ইমনকে আরও ভালো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমাদের থেকে আরও ৬০ হাজার টাকা নেন রহিম। ৩ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো ইমনকে কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।’তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা জানতে পেরেছি পেট্রোল পাম্পের চাকরির ভিসা নয়, ইমনকে ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার থাকার জায়গা নেই, খাবার দেওয়া হয় না। আমরা তার খাওয়ার জন্য দেশ থেকে টাকা পাঠাতে হয়। এসময় তিনি তাদের সঙ্গে হওয়ার প্রতারণার বিচার দাবি করে ক্ষতিপূরণসহ ছেলেকে দেশে ফেরত চান।’অভিযোগ রয়েছে আ. রহিম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন অসংখ্য যুবক। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন ইমন।শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সৌদি আরব থেকে ভুক্তভোগী ইমন ভিডিও কলে এই প্রতিবেদককে জানান, ‘তাকে যে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে তার আর মাত্র ৩ দিন মেয়াদ আছে। ৩ দিন পর তিনি সৌদিতে অবৈধ হয়ে যাবেন। সেখানে গ্রেফতারের শঙ্কায় আছেন তিনি।’দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল মিয়া জানান, ‘দুই বছর আগে তার ছেলেকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ২ লক্ষ টাকা নিয়েছেন রহিম ও তার চাচাতো ভাই মনির। পরে তাকে সৌদিতে পাঠাতে না পারলেও এখনো টাকা ফেরত দেননি রহিম।’এছাড়াও জাকির নামের অপর একজন জানান, ‘তার চাচাতো ভাইকে সৌদি আরবে নিয়ে সঠিক কাজ দেননি। তার প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবার। তার মতে, দালাল চক্রের এখনই লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠবে।’স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইমন নন, রহিমের এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। গ্রামের সহজ সরল মানুষদের কাছে বিদেশে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের পুরনো কৌশল। এর আগে অনেকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আ. রহিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে, সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তার বাসায় বসে একাধিক ফোনকল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।রহিমের স্ত্রী জানান, ‘রহিম শুধু এখান থেকে টাকা রিসিভ করেন। বাকী কাজ তার ভাসুর মনির করেন। মনিরের দিকনির্দেশনায় রহিম মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসেন।’অভিযুক্ত মনিরের বাসায় গিয়ে দেখা যায় তার ঘরের দরজায় বড় একটি তালা ঝুলছে। স্ত্রী সন্তান তার শশুর বাড়িতে রয়েছে বলে জানান প্রতিবেশীরা। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন আর প্রতারকের ফাঁদে না পড়ে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
