জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের ভেতরেও সংসদ সদস্যদের জন্য বিশাল অঙ্কের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণার পরেই ফুঁসে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রে গত কয়েক সপ্তাহে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি পুলিশের গাড়ি চাপায় নিহত হন এক ফুড ডেলিভারি বয়। এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। এ আন্দোলন শুধু ভাতা নয়, আন্দোলন আজ আর্থসামাজিক বৈষম্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ৫৮০ সংসদ সদস্যের জন্য সরকার মাসে ৫০ মিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৩ হাজার ডলার) করে আবাসন ভাতা নির্ধারণ করে। এখান থেকেই হয় বিক্ষোভের সূচনা। ইন্দোনেশিয়ায় একজন সাধারণ কর্মীর ন্যূনতম মজুরি তার ১০ ভাগের ১–২ ভাগ মাত্র। ফলে এমপিদের ভাতার খবরটি সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই সিদ্ধান্তকে জনগণের সঙ্গে ‘স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন অনেকে।এমপিদের ভাতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ চলছিল ঠিক তখন দেশটির রাজধানী জাকার্তায় একটি সাঁজোয়া পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন ২১ বছরের ফুড ডেলিভারি কর্মী আফফান কুর্নিয়াওয়ান। আফফানের মৃত্যু যেন গোটা দেশের হতদরিদ্র, খেটেখাওয়া মানুষের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। তার মৃত্যু আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক পোস্টে লেখা হয়, ‘আফফান মারা গেছে, কিন্তু আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেছে।’ আফফানের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভের সঞ্চার। জাকার্তা ছাড়িয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সুমাত্রা, সুলাওয়েসি, বালি, এমনকি দূরের কালিমান্তানেও। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, জলকামান ব্যবহারে বাড়ে উত্তেজনা। বহু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, ভাঙচুর হয় সরকারি ভবন ও সংসদ সদস্যদের বাড়িঘরে।এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিদের আবাসন ভাতা বাতিল করা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধি বন্ধ করা হয়েছে এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্ষোভ কমালেও আন্দোলনের গভীর শিকড় এত সহজে তুলে ফেলা যাবে না। কারণ এটি এখন শুধুই আর অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, এটি মর্যাদার লড়াই, শ্রেণি-পার্থক্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
