গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) বদলির আদেশপ্রাপ্ত একাধিক পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না। এদিকে জিএমপির কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অফিস থেকে একাধিকবার নির্দেশনা প্রদান করা হলেও তারা পূর্বের কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর কাশিমপুর থানায় কর্মরত এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক হোসেন, এসআই (নিঃ) মোঃ রোকন মিয়া, এএসআই (নিঃ) মোঃ খসরুল আলম ও এএসআই (নিঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ এই চার পুলিশ সদস্যকে গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ৩৯৪০ ও ৩৯৪১ নং আদেশ মূলে জিএমপির অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগে বদলি করা হয়।পরবর্তীতে ছাড়পত্র প্রদান ও যোগদানের জন্য একাধিকবার নির্দেশনা জারি হলেও তারা অদ্যাবধি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অফিস থেকে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সকাল ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে পূর্ণ ইউনিফর্ম পরিধান করে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত ওই সদস্যরা নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বদলিকৃত সদস্যদের ছাড়পত্র না দিয়ে তাদের রাখার নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। ওসির প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে উক্ত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়ভাবে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে কিছু পুলিশ সদস্য প্রভাব খাটাচ্ছেন, যা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর যে চারজনকে বদলি করা হয়েছে, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করার কারণে সামনের ছয় মাসের মধ্যে যেতে চাচ্ছেনা। তাই তারা আরো ছয় মাস এখানে থাকার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।’জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট থানা ইনচার্জকে দায়ী করা হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’প্রসঙ্গত, কাশিমপুর থানার এসআই রোকন এক মাদক কারবারিকে আটক করে ২ লক্ষ টাকা নেন, পরে ওসি মনিরুজ্জামানের রুমে এসে টাকার ভাগবাটোয়ারা করেন। এ বিষয়ে সময়ের কন্ঠস্বরসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় নিউজ প্রকাশিত হলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
