কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বিভিন্ন সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপে নাকাল হয়ে পড়েছে পৌরবাসী। ময়লার দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়েছে। অনেকের মাঝে দেখা দিয়েছে নানান ধরনের রোগ বালাই। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নালা-ডোবা ময়লায় ভরাট হওয়ায় চলছে দখল প্রক্রিয়া। স্থানীয়দের দাবি, লোকালয় থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হোক ময়লার ভাগাড়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, শহরের বাইরে নির্জন কোনো স্থানে একটি ময়লার ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।সরেজমিনে জানা যায়, বন্দর নগরী ভৈরব ও রেলওয়ে জংশনের একটি ব্যস্ততম সড়ক হচ্ছে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন রোড। স্টেশন থেকে বেরিয়ে প্রথমেই যেটা চোখে পড়বে, সেটা হল পলাশ মোড়ের ময়লার ভাগাড়। এছাড়াও পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ড, তাঁতার কান্দি হাজি কাদির সরকার রোডসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে রয়েছে ময়লার ভাগাড়। আর এ রোডেই প্রতিদিন মানুষ চলাচল করে থাকে হাজারো রিকশা ও অটো সিএনজি। সড়কটির পাশেই রয়েছে রেলওয়ের একটি বড় পুকুর। প্রতিদিন পৌর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও হোটেল রেস্তোরাঁর ৩০ থেকে ৪০ টন ময়লা এনে এখানেই ফেলেন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। বর্তমানে পুকুরটির এক তৃতীয়াংশ ভরাট হয়ে গেছে ময়লা আবর্জনায়।এ ময়লার দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় নাক-মুখ চেপে চলতে হয় পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের। ময়লা থেকে সৃষ্ট পোকা-মাকড় ও মশা-মাছির মাধ্যমে মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে রোগ বালাই। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ময়লার স্তুপের পাশের নর্থ সাউথ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধে ক্লাস করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ। ময়লার দুর্গন্ধ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পৌরবাসীর। স্থানীয়দের দাবি, একটা নির্জন স্থানে ময়লা ফেলা হলে মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।পথচারী খাইরুল কবির দিপু, সুবোধ সরকার ও আলামিন মিয়া বলেন, প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়ে আমাদের পেশাগত কাজে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ জায়গাটিতে আসলে নাক-মুখ চেপে আসতে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ কীভাবে যে এমন একটা ব্যস্ততম রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলছে, ভাবতেও অবাক লাগে।ট্রেনে আসা যাত্রী আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া এবং রুহুল আমিন বলেন, ভৈরবের মানুষের রুচিবোধ থাকলে এমন স্থানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নোংরা করতো না। মনে হয়, তাদের রুচিবোধের অভাব আছে।অপর যাত্রী কাউসার আহমেদ বলেন, এখানকার ময়লা আবর্জনা ভৈরবের সৌন্দর্য্যকে অসুন্দর করে ফেলেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে একটি নির্জন স্থানে ময়লা ফেলা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নর্থ সাউথ স্কুলের শিক্ষিকারা বলেন, আমাদের স্কুল সংলগ্ন স্থানে ময়লা ফেলায় আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না, শুধু ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে। স্টুডেন্টরা অনেকেই মাঝে মাঝে বমি করে ফেলে। আবার অনেকের মাঝে দেখা দিয়েছে অ্যালার্জির মতো চুলকানি রোগ। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, যত দ্রুত সম্ভব এখানে ময়লা না ফেলে অন্যত্র কোথাও ফেলুক। তাহলে একদিকে ভৈরবের সৌন্দর্য রক্ষা পাবে, অপরদিকে এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুস্থ থাকবে।শিক্ষার্থী তুহিন ও মারিয়া বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে আমরা ক্লাস করতে পারি না। কিছুক্ষণ ক্লাসে বসে থাকার পর দম বন্ধ হয়ে মারা যাবার মতো অবস্থা হয়। এখানে ময়লা ফেলে আমাদের স্কুলের সুন্দর পরিবেশটাকে তারা নষ্ট করছে।এলাকাবাসী অনেকেই বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ এখানে ময়লা ফেলে ভরাট করে ভূমি দস্যুদের দখল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমাদের মনে হয়, এখানকার জায়গা ভরাটের মাধ্যমে কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। নইলে তারা এত সুন্দর করে ভরাটের কারণ কী?পরিচ্ছন্নকর্মীরা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই পলাশের মোড় ও বাগানবাড়ি এলাকায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভূমিতে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা শুধু নির্দেশ পালন করছি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য পৌর সভার পক্ষ থেকে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের নীতিমালার ভেতরে থেকে পৌর সভার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি কেনার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। জমি কেনা হলেই ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করা হবে। ডাম্পিং স্টেশন হয়ে গেলে ময়লা আবর্জনার জন্য পৌরবাসীকে আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
