সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে রোপনকৃত আমন ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। রোপনের ৪ দিন পরেই ধানের চারাগুলো টেনে তুলে জমিতেই পুঁতে ফেলেছেন প্রতিপক্ষ। উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ওই দিনই ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।অভিযুক্তরা হলেন- পরানপুর গ্রামের মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে তছের আলী (৫৫), তছেরের ছেলে তুহিন মিয়া (২১) ও স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৪৫)। উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে রাশেদ মেনন টিটু (৩৫)।অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া কাজীপুরের হরিনাথপুর মৌজায় ২৮৯৫ দাগের ১৪ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করেন পরানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর আকন্দের ছেলে মো. আব্দুস সবুর। ওই জমির পাশে অভিযুক্ত তছের আলীরও জমি রয়েছে। আব্দুস সবুরের ১৪ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ জোরপূর্বক নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন তছের আলী। আব্দুস সবুর যতবারই ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করেন, ততবারই চারা নষ্ট করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ৩০ আগস্ট সকালে ওই জমিতে ঢুকে তছেরসহ তাঁর লোকজন রোপনকৃত ধানের চারা টেনে তুলে নষ্ট করেন। খবর পেয়ে আব্দুস সবুর এগিয়ে গেলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তাঁরা।সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ওই জমিতে তুলে ফেলা ধানের চারাগুলো পানিতে ভাসছে। কোথাও আবার কাদায় পুতে ফেলা হয়েছে। চারপাশের জমিগুলোতে ধানের গাছ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। আর ওই জমির চারা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। জমিটি পতিত রয়েছে।এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক আব্দুস সবুর বলেন, ‘পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ওই জমিতে আমরা প্রায় ৫০ বছর ধরে আবাদবসত করে আসছি। কিন্তু ১৪ শতাংশের অর্ধেক ৭ শতাংশ নাকি তছেরদের দিতে হবে। তাঁরা নানা ভয়ভীতি দেখায়। ধানের চারা লাগালে তাঁরা টেনে তুলে ফেলে দেয়। গত ২৬ আগস্ট ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করেছি শ্রমিক দিয়ে। ৩০ আগস্ট সকালে তছের আর তাঁর ছেলে জমিতে গিয়ে চারাগুলো টেনে তোলে ও পুতে ফেলে। এর আগেও একবার চারা লাগিয়ে ছিলাম, তখনও নষ্ট করেছে।’আব্দুস সবুর আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি এগিয়ে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে হুমকি দিয়ে বলে, ‘হয় ৭ ডিসিমাল জমি দিবু, না হয় ৫ লাখ টাকা দিবু। তাছাড়া তোর লাশ গুম করে ফেলবো।’ধানের চারা রোপনকরা শ্রমিক বাবু মিয়া বলেন, ‘আমরা দুই জন সবুরের জমিতে রোয়া (ধানের চারা) গাইরা দিছি কয়েকদিন আগে। ওই রোয়া তুইলা ফালাইছে। আমি জমিতে গিয়ে দেখেও আসছি।’এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তছেরের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবুরের বাপের কাছ থেকে ৩২ বছর আগে ওই জমি কিনা নিছি। দলিল খারিজ সব আছে। ধানের চারা নষ্ট করিনাই। ১ বছর ধইরা তো ওই জমিতেই যাইনা।’কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ দিয়েছে কিনা মনে নেই। দেখতে হবে। দিয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
