শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শরীয়তপুর পার্কে নাগরদোলা ভেঙে তিন শিশু আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনের এই বিনোদন পার্কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।আহত শিশুরা হলো—ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাপরাইল গ্রামের শফিক পালোয়ানের ছেলে জিসান (১২), একই উপজেলার আলী আজম সরদারের ছেলে আব্দুর রহমান (১৫) এবং ডামুড্যা উপজেলার ধনই গ্রামের বাবলু হাওলাদারের ছেলে মিরাজ (১৪)। তারা তিনজন বন্ধু মিলে পার্কে ঘুরতে আসে।স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশুরা নাগরদোলায় ওঠার কিছুক্ষণ পর সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এ সময় তারা তিনজন ছাড়া আর কেউ নাগরদোলায় ছিল না। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিনিয়া সাদিনা বলেন, ‘আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনটি শিশু আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তারা শরীয়তপুর পার্কের নাগরদোলায় চড়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। আব্দুর রহমানের মাথায় আঘাত ও নাক দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল, জিসানের বুকে গুরুতর আঘাত ছিল এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। মিরাজের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জিসান ও আব্দুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’আহত মিরাজ বলেন, ‘আমরা তিন বন্ধু পার্কে ঘুরতে এসেছিলাম। নাগরদোলায় উঠার পর দেখি আমাদের বসার জায়গাটি দুলতে শুরু করে এবং হঠাৎ করেই সেটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আমি হাতে ও বুকে ব্যথা পাই। পরে আশপাশের লোকজন আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রমজান হোসেন বলেন, ‘আমরা বাইরে থেকে দুর্ঘটনাটি দেখে পার্কের গেটে ঢুকতে চাইলে পার্ক কর্তৃপক্ষ টিকিট দেখাতে বলে আমাদের বাধা দেয়। তারা পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে বাধ্য হয়ে আমরা পার্কের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে আহতদের উদ্ধার করি।’শরীয়তপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ তালুকদার বলেন, ‘নাগরদোলায় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, অথচ এমন ঝুঁকিপূর্ণ অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করছি।’এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একজনের পরিবার তখনো আসেনি, তাই আমাদের লোকজন সঙ্গে দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করছে। প্রথমে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, পরে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।’এই দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নাগরদোলা ও পার্কের অন্যান্য রাইডগুলো কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এবং সচেতন মহল পার্কের সকল যন্ত্রপাতির মান যাচাই ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
