প্রধান সহকারীর বদলির আদেশ ঘিরে ময়মনসিংহ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে টানা ৯ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। কলেজের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কার্যত কলেজের ভেতরে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়।গত ১৪ আগস্ট মাউশির এক অফিস আদেশে কলেজের প্রধান সহকারী শেখ মোহাম্মদ সুরুজ জামানকে বদলি করা হয়। এই আদেশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এবং টাকার বিনিময়ে বদলির এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সুরুজ জামান কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশে সবসময় ছিলেন। প্রশাসনিক কাজে তাঁর দক্ষতা ও সততার কারণে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে কলেজের পরিবেশ নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তৌকির তরফদার বলেন, ‘আমাদের সুরুজ জামান ভাইকে অবৈধভাবে বদলি করেছে মাউশি। আমরা চাই এই বদলির আদেশ বাতিল হোক।’আরেক শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আহমেদ মুনির অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আমলে যারা টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেছে, আবার সেই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে। আমরা চাই তাদের ভেঙে দেওয়া হোক।’ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী আবু রায়হান পলাশ বলেন, ‘যে আজহারুলকে বদলি করে এখানে আনা হয়েছে, আমরা তাঁকে কলেজে প্রবেশ করতে দেব না।’শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কলেজের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং একাডেমিক প্রশাসন সবই স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. জয়নাল আবেদীন খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমরা সমাধানের অপেক্ষায় আছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’বদলির আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান সহকারী শেখ মোহাম্মদ সুরুজ জামান বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের অনিয়ম করিনি। তবুও আমাকে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর এ.কে.এম আলিফ উল্লাহ আহসান বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান আসবে।’আন্দোলন শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের দাবি- সুরুজ জামানের বদলির আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে সংকট আরও গভীর হবে। কলেজের চলমান শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে জট তৈরি হয়ে সার্বিক একাডেমিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
