গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজের মনমতো অফিস করেন। এছাড়াও সপ্তাহে সোমবার ও বুধবার এই দুই দিন ক্লিনিকে আসেন তিনি। তাও আবার নির্ধারিত সময়ের বাইরে। গত শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাশিমপুর এলাকায় লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের দরজায় ঝুলছে তালা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সেবা উন্মুক্ত থাকবে কমিউনিটি ক্লিনিক। এছাড়াও সপ্তাহের এক দিন অর্থাৎ শুক্রবার বন্ধ থাকবে। কিন্তু লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রোকেয়া রহমান নিজের একক সিদ্ধান্তে সপ্তাহে দুদিন অর্থাৎ সোম ও বুধবার ক্লিনিকে আসেন। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগে ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান। এমনটা বলছেন স্থানীয় লোকজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অদৃশ্য ক্ষমতার বীর দাপটে একই স্থানে অফিস করছেন তিনি। সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে করেন অশোভন আচরণ। পরের দিন রবিবার (২৪ আগস্ট) চিত্র একটু ভিন্ন। ক্লিনিকে সকাল ১১টা সময় সাংবাদিক এসেছে শুনে তিনি ক্লিনিকে নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা বিলম্বের পরে তড়িঘড়ি করে চলে আসেন রোকেয়া রহমান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সেবা গ্রহীতা বলেন, ‘এই ক্লিনিকে এতো অনিয়ম তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বেশিরভাগ সময় এসে ঘুরে যেতে হয় কোন কর্মকর্তা না থাকার কারণে। এছাড়াও ওষুধ নিতে আসলে ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যায় না।’ এছাড়াও নোয়াখালী মার্কেট এলাকার এক বৃদ্ধা নারী বলেন, ‘বাবা, আমি গত তিন দিন যাবত এসে ঘুরে যাচ্ছি। যখনই এই ক্লিনিকে আসি তখনই দেখি দরজায় তালা মারা। তাই ওষুধ না পেয়ে পরপর তিন দিন ঘুরে গেছি। একদিকে পাওয়া যায় না ঠিকমতো ওষুধ, অপরদিকে রয়েছে এই ভোগান্তি, আমরা এগুলো থেকে পরিত্রাণ চাই।’ সারদাগঞ্জ এলাকা থেকে সেবা নিতে যেতেন গর্ভবতী নারী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আমি গর্ভবতী থাকা অবস্থায় ক্লিনিকে যেতাম। কিন্তু বেশিরভাগ সময় বন্ধ পেতাম। পরে রোকেয়া আপা বলেন, আপনি অসুস্থ, এভাবে এসে ঘুরে যান। আপনি প্রতি সোমবার ও বুধবার আসবেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের শেষ নেই।’ সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া রহমান বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এমনটা হয়। বাহিরেও কাজকর্ম থাকে, বুঝেন তো বিষয়টা।’ তবে সপ্তাহে দুই দিন ক্লিনিকে আসার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ক্লিনিকে ওষুধ থাকে না। আমি যখন ছুটিতে থাকি তখন তারা আসতে পারে। তখন হয়তো বা অনেকে এসে ঘুরে যান। তবে তাদের অভিযোগ সত্য নয়।’ এছাড়াও তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিগত নয় থেকে ১০ মাস ঠিকমতো বেতন পাননি বলে, ক্লিনিকের কাজে গাফিলতি করেছেন সে বিষয়টা তিনি স্বীকার করেন এবং বর্তমানে ঠিকমতো অফিস করছেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে রোকেয়া রহমান গত ১৪ বছর ধরে কাশিমপুরের লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হিসেবে আছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। তবে সিএইচসিপি রোকেয়া রহমানের মতো দায়িত্বশীল কিছু লোকের দায়িত্বহীনতার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরকম তথ্য আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম রোকেয়া রহমান ঠিকমতো অফিস করেন না। তারা তো বলেন ঠিকমতোই অফিস করেন। এর আগে কখনও এমন অভিযোগ কেউ করেনি।’ ‘আমরা যারা ভিজিটে যাই, তাদের হাজিরা খাতা চেক করবো। সে নিয়মিত অফিস করে কিনা। সরকারি কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নাই। তবে এ বিষয়ে কেউ যদি অভিযোগ করে বা যদি ঘটনার বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
