বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কম্বাইন্ড (বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি) ডিগ্রির দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে শিক্ষার্থীরা ওই অনুষদের করিডোর থেকে একটি মশাল মিছিল বের করেন। পরে মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে প্রশাসনিক ভবন হয়ে সমাবর্তন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।এসময় শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষক শিক্ষক’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম স্বৈরাচার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।এই নিয়ে তারা প্রায় এক মাস ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবার ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও তাদের অনুষদের তিনটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী শিবলী জানান, ‘শিক্ষকরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে জোর করা হয়নি। নবীন শিক্ষার্থীরাও স্বেচ্ছায় আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। কাউকে বাধ্য করা হয়নি। নিজেদের পেশাগত অস্তিত্ব রক্ষায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’পশুপালন অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী হিমেল জানান, ‘সম্প্রতি আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকে বিপথগামী ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যা অনেকটা বিব্রতকর। শিক্ষকরা আমাদের অভিভাবক, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আমরা আশা করিনি।’পশুপালন অনুষদের নারী শিক্ষার্থী এমা জানান, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। অথচ শিক্ষকরা এই আন্দোলনকে গর্হিত আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ছাড়া তারা আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী সিফাত সালেহীন জানান, ‘চলমান কম্বাইন্ড ডিগ্রির আন্দোলন মীমাংসার জন্য জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল গঠন এবং নির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অনুষদের তিনটি ভবনে তালা ঝুলানো হয়েছে। পাশাপাশি আমরা সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছি। আশা করি, কালক্ষেপণ না করে বুধবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল গঠন করবে।’উল্লেখ্য, কম্বাইন্ড ডিগ্রির সমাধানের লক্ষ্যে গত ১২ আগস্ট একটি সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ধাপে ধাপে পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে তাদের নিজস্ব ইআরপি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। যেখানে ভেটেরিনারি অনুষদের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত এবং পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভোট দেন। দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে দেখা যায়, পশুপালন অনুষদের ৯০ শতাংশ এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে মত দেন।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
