কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মিয়ানমার সরকারের বিচার দাবিতে সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখো নারী-পুরুষ। আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) আয়োজিত এই গণহত্যা দিবসে ৩৩টি ক্যাম্পের মিয়ানমার নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। শিশু, নারী ও পুরুষরা একত্রিত হয়ে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।সমাবেশে উপস্থিত রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং সরকারের পরিকল্পিত নৃশংসতায় শিশুসহ মা-বোনদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গ্রামগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, লাখো মানুষকে দেশছাড়া করা হয়েছে। এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের দায় এড়াতে পারে না মিয়ানমার সরকার।নেতারা আরো বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসলেও গেল ৮ বছর আগে মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া গণহত্যা আজও আন্তর্জাতিক মহলের বিবেককে নাড়া দেয়নি। আমরা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। কিন্তু আমাদের ন্যায্য অধিকার— নাগরিক স্বীকৃতি, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও ন্যায়বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি।’জুবাইর নামে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের একজন বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, নারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার না হলে পৃথিবীতে মানবাধিকার নামক কোনো শব্দের অস্তিত্ব থাকবে না।’সমাবেশ শেষে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জনগণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি তারা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা চান।সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সাধারণ রোহিঙ্গা নাগরিকরা স্লোগানে স্লোগানে ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি তুলেন।এদিকে ইনানীর হোটেল বেওয়াচে ‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ডক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে।’‘রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা অঞ্চলের জন্য একটি নিরাপত্তাজনিত হুমকি। এটি মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার ফল। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই দুর্যোগের ভার বইতে না হয়, সে জন্য এখনই উদ্যোগ নিতে হবে’, যোগ করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ৭ দফা প্রস্তাবও পেশ করেন।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
