কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ১২ লক্ষাধিকেরও বেশি রোহিঙ্গা আজ মিয়ানমারের বর্বরোচিত গণহত্যার কথা স্মরণ করে একটি বিশেষ দিবস হিসাবে ‘গণহত্যা দিবস’ কর্মসূচি পালন করেছেন।সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করছে। সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।সমাবেশে তারা মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা, নাগরিক অধিকার স্বীকৃতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।রোহিঙ্গা নেতৃবৃন্দের মতে, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাঁরা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তব সমস্যার সমাধান না হলে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সম্ভব নয়। তাঁরা স্পষ্ট করে জানান, মিয়ানমারে ফিরে যেতে হলে—পূর্ণ নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, নিজ বাড়িঘর, জমি ও সম্পদ ফেরতের নিশ্চয়তা, স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।তৈয়ব নামে এক রোহিঙ্গা নেতা সমাবেশে বলেছেন, ‘ড. ইউনুস সরকার চাইলে আমাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারবেন। আমরা ইউনুস সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—এই শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে আমাদের নিজ ভূমিতে ফেরার ব্যবস্থা করুন।’অনেকেই উচ্চ কণ্ঠে বলতে শুনা গেছে, ‘শুধু নামমাত্র পুনর্বাসন বা জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নয়, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেই তাঁদের ফিরিয়ে নিতে হবে।’অন্যদিকে, একই দিনে কক্সবাজারের ইনানীতে শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস ইনানীর বে ওয়াচ হোটেলে পৌঁছে সম্মেলনে যোগ দেন। এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ সংস্থা, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।সূত্র জানায়, এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা, দাতা সংস্থার ভূমিকা এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় নীতি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্স কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের গণজমায়েত ও ইনানীতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে ঘিরে উখিয়া ও ইনানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
