লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন আবদুর রহিম জুয়েল নামে এক ব্যবসায়ী।রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে তাকে থানার ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ। পরে প্রতিপক্ষের মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।আবদুর রহিম জুয়েল সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের হেতিমপুর গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী।অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ নুরজাহান বেগম, তার মেয়ে সুফিয়া খাতুন এবং বিজয়নগরের নাজমুল হাসান প্রিন্স দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রোববার সকালে তারা জোরপূর্বক ওই জমিতে দেয়াল নির্মাণ শুরু করলে বাধা দিতে যান জুয়েল। এসময় হামলার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি পরিবারের। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী উম্মে হাবিবা শিমুও মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কারও লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন।পরবর্তীতে ওই ঘটনায় সন্ধ্যায় জুয়েলের স্ত্রী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে জুয়েল অভিযোগ করেন, ‘আমি হামলার শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে ওসি আমার মামলা নেননি। উল্টো আমাকে আটক করেন। অথচ তখন প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘জমির মালিকানা প্রমাণে সব কাগজপত্র আমাদের হাতে আছে। একাধিক সালিশ বৈঠকেও রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। তারপরও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণ করছে।’অভিযোগের বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত জুয়েল প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে তিনি অভিযোগ দিতে থানায় যান। ওসি বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন, জুয়েলের আঘাত গুরুতর নয়। এজন্য তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’এদিকে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জুয়েল তাদের জমির ফসল, মাছ লুট করেছেন। দেয়াল নির্মাণে বাঁধা দিয়ে পানির পাম্প, রড-সিমেন্ট নিয়ে যান। বাধা দিলে নুরজাহানের মেয়ে সুফিয়াকে কুপিয়ে জখম করেন এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
