টেকসই বাঁধ না থাকায় কক্সবাজারের উখিয়ার রুমখা চরপাড়া এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবারের ২ শতাধিক মানুষ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। রেজুখালের পাড় ঘেঁষে থাকা এই এলাকাটির মানুষ প্রতিনিয়ত বন্যা ও ভাঙনের ভয়ে জীবনযাপন করছে।বর্ষা এলেই খালের পানি বেড়ে গিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ায় চরপাড়ার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় তাদের সাইক্লোন সেন্টারে নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান মেলে না, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ‘উখিয়া সৈকত সড়ক’ অর্থাৎ কোটবাজার-ইনানী সড়কের পাশ ঘিরেই হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই রুমখা চরপাড়া এলাকাটি। এখানকার অধিকাংশ মানুষ জেলে ও দিনমজুর। তারা একদিকে আর্থিক সংকটে অন্যদিকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ভারী বৃষ্টি বা বন্যা হলে যে কোনো মুহূর্তে খালের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে তাদের ঘরবাড়ি। খালের একেবারে পাড় ঘেঁসেই তাদের বাড়ি ও আঙিনা।চরপাড়ার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারী বৃষ্টি হলেই জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে পড়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আবহাওয়ার সংকেত দিলে আমাদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান মেলে না। এখানে সঠিক বাঁধ নির্মাণ হলে অন্তত স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান হতো বলে মনে করছি আমরা। কেন তা হচ্ছে না, সরকারই ভালো জানেন। তবে আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বারবার বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি অবগত করেছি। এখনো কোনো সুরহা মিলেনি।স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক আহমেদ সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেছেন, ‘আমি ইউপি সদস্য হওয়ার পর থেকে কোনো কাজের মধ্যে আমাকে অগ্রাধিকার দেয়নি আমার চেয়ারম্যান। তাই আমি এই চরপাড়া বাসীর জন্য কিছুই করতে পারিনি। তারপরেও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাদের সমস্যার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যাব। তবে, এখানে কিছু অংশ হলদিয়া ইউনিয়ন পড়লেও বেশিরভাগ জালিয়াপালং ইউনিয়নের আওতায় পড়েছে।’একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে, তার মেসেঞ্জার থেকে মেসেজ দেওয়া হয়েছে, ‘চেয়ারম্যান অসুস্থ, সুস্থ হলে যোগাযোগ করবেন।’চরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওবাইদুল হক বলেন, ‘আমরা সবসময় ভয়ে থাকি—কখন যে ঘরবাড়ি ভেসে যায় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বছরের পর বছর এই দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছি। এখন কোথায় যাব, কার কাছে বলব বুঝতে পারছি না। পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমাদের খোঁজ নেয় না কেউ।’একই এলাকার জহির আহমেদ বলেন, ‘বর্ষা আর বন্যার সময় আমাদের জীবন চলে কঠিন অবস্থায়। তখন কেউ খোঁজও নেয় না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেন না। কোনোভাবে দিন কাটাই। স্থায়ী বাঁধ না থাকায় আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। হলদিয়াপালং এবং জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাঝখানে আছি, কোন পক্ষই খবর নেয় না এসব।’জানা গেছে, সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পড়লেই চরপাড়ার মানুষদের সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় পেলেও তা সাময়িক; স্থায়ীভাবে তাদের দুর্ভোগ লাঘবের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিবারই ঘরে ফিরে এসে তাদের নতুন করে সংগ্রাম শুরু করতে হয়।উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে সময়ের কন্ঠস্বরকে তিনি বলেন, ‘এই চরপাড়াবাসীর কথা মাথায় রেখে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি, আশা করি বাজেট আসলেই কাজ হয়ে যাবে।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
