পটুয়াখালীর বাউফলে নিখোঁজের ৩১ ঘণ্টা পর উর্মি আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্ভুখালী-নায়ায়নপাশা গ্রামের একটি খালের জলাপকাট এলাকায় ওই কিশোরীর লাশ তার এক স্বজন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঊর্মি আক্তার উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্ভখালী গ্রামের নজরুল ইসলাম বয়াতি ও আমেনা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে কিছু দিন আগে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয় সে। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।ঊর্মি আক্তারের মা আমেনা বেগম (২৬) বলেন, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত সোয়া একটার দিকে মেজো মেয়ে লামিয়াকে নিয়ে প্রকৃতির ডাকে বাইরে যায় ঊর্মি। দীর্ঘক্ষণেও দুই বোন ফিরে না আসায় বাইরে গিয়ে তিনি লামিয়াকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু ঊর্মিকে না দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে মাথায় পানি দিয়ে লামিয়াকে সুস্থ করা হয়। তিনি আরও বলেন, লামিয়ার ভাষ্যমতে ঝাঁজালো গন্ধে সে অচেতন হয়ে পড়ে। চার-পাঁচজন তার মেয়ে ঊর্মিকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ঊর্মির খোঁজ না পেয়ে তার মা আমেনা বেগম শুক্রবার দুপুরে বাউফল থানায় আসেন। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তখন দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য যান। তাকে (আমেনা বেগম) অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে চলে যান। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে স্থানীয়রা লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। লাশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
