বয়স শুধু মুখের বলিরেখায় নয়, ধরা পড়ে জিনের গঠনে- এমনটাই বলছেন গবেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে যুক্ত ৪০৮টি জিন তাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন।গবেষকদের মতে, এই জিনগুলির সক্রিয়তার কারণেই কারও কম বয়সেই বলিরেখা পড়ে, ডায়াবেটিস, অ্যালঝাইমার্স বা বাতের মতো রোগ দেখা দেয়। আবার অন্যদিকে, কারও বয়স ৯০ ছুঁলেও ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয় না।চলতি মাসে নেচার জেনেটিক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, বার্ধক্য প্রক্রিয়া মূলত জিনভিত্তিক। গবেষকেরা ‘জিরোসায়েন্স হাইপোথিসিস’ মেনে এই জিনগুলিকে সাতটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। দলের প্রধান গবেষক ইসাবেল ফুট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অকাল বার্ধক্য ঠেকাতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই গবেষণা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।মার্কিন চিকিৎসকেরা বার্ধক্যের দুর্বলতা মাপতে ৩০টি সূচক ব্যবহার করেন—হাঁটার গতি, ওজন তোলার ক্ষমতা, গ্রিপ শক্তি, স্নায়বিক সক্ষমতা থেকে শুরু করে স্মৃতিশক্তি পর্যন্ত। দেখা গেছে, ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকই দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে চিহ্নিত সেই ৪০৮টি জিন।তবে গবেষকদের মতে, সব জিন একসঙ্গে সক্রিয় হয় না। তাই কারও শরীরে অ্যালঝাইমার্স হলেও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে পারে, আবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ হয়তো মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ থাকবেন।মানব দেহের বার্ধক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টেলোমেয়ার, ক্রোমোজোমের প্রান্তের সুরক্ষা-কবচ। বয়স বাড়ার সঙ্গে এর দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। গবেষকেরা বলছেন, টেলোমেয়ারের ক্ষয় রোধ করা গেলে দেহকোষের অবক্ষয় থামানো সম্ভব, এমনকি ‘অমৃতকুম্ভের’ সন্ধানও মিলতে পারে। ভবিষ্যতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে ‘আয়ুষ্মান জিন’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণের আশাও রয়েছে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
