রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে ব্যবহৃত টায়ার অনিয়মের মাধ্যমে বেসরকারি এক এয়ারলাইন্স কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার ঘটনায় দুজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন কর্মচারী প্রবিধানমালার ৫২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আপনার চাকরি অবিলম্বে অবসান করা হল। নোটিশ পে বাবদ এক মাসের সর্বসাকুল্যে বেতন প্রদান করা হবে। চাকরি সংক্রান্ত সকল আইনানুগ পাওনাদি অর্থ পরিদপ্তর যথারীতি পরিশোধ করবে।’ চাকরিচ্যুতরা হলেন— বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হক। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, চাকাগুলো সরানোর সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি টের পেলে সেগুলো আর নিতে পারেননি অভিযুক্তরা। এর আগে, বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেনের করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশের অকশন শেড থেকে বিমানের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে আরমান হোসেন ও সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, টায়ারগুলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের এজিএম শফিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ কাজে কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল না। যদিও জিডিতে বিষয়টিকে ‘চুরি’ বলা হয়নি, তবে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আটবার বিমানের বিভিন্ন উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর মধ্যে একাধিকবার চাকা ফেটে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটেই ‘চাকা কেলেঙ্কারি’ নতুন করে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
