ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারা। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আপাত দৃষ্টিতে দেখতে মনে হবে সংগঠনটির ‘অঙ্কুরেই বিনাশ’ ঘটছে। গত ১২ আগস্ট থেকে শুরু হয় ডাকসুর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ। ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, বামজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং প্যানেল ঘোষণা করেছে। তবে ভিন্নতা দেখা গেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ক্ষেত্রে। এরই মধ্যে তিনটি পৃথক প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারা। এমনকি সংগঠন থেকে পদত্যাগ করে অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও হয়েছেন। বিগত কয়েকদিন ধরে পদত্যাগ কিংবা অন্য প্যানেলে প্রার্থী হওয়ার খবরের পর এবার ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী। এ নিয়ে প্যানেলের বাইরে বাগছাসের দু’জন নেতা এজিএস পদে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন। যার মধ্যে অপরজন বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সানজানা আফিফা অদিতি।আজ বুধবার (২০ আগস্ট) মধুর ক্যান্টিনে নিজের স্ত্রী নাফিসা ইসলাম সাকাফিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা দেন তাহমিদ। বাগছাসের প্যানেলে এজিএস প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহমিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, বর্তমানে এমফিলে অধ্যয়নরত।এছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সংগঠনটির পদত্যাগকৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তসেন মোক্তার। অপর এক যুগ্ম সদস্যসচিব আজিজুল হক পদত্যাগ করে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদে। দুজনেরই অভিযোগ, ‘কোরামবাজি’ আর ‘লেজুড়বৃত্তি’ করছে বাগছাস।বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিবুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন। আবার একই পদে ফরম তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আবু সাঈদ।এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদ’ নামক প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী হয়েছেন। তবে এ ঘটনার পর তাকে নিবৃত্ত করতে না পেরে শেষমেশ দল থেকেই বহিষ্কার করে এনসিপি। গত ১৮ আগস্ট দলটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের নির্দেশ ক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জানা গেছে, সদ্য এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত মাহিন সরকারের প্যানেলে সদস্য পদে নির্বাচন করছেন বাগছাসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পদত্যাগকৃত সংগঠক সাব্বির উদ্দিন রিওন। অপরদিকে একই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ।এসব ঘটনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে যে, কদিকে যেমন নিজ দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এনসিপি, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিভেদ বাড়ছে। তবে এ বিষয়টিকে কোন্দল বা বিরোধ হিসেবে না দেখে একে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবেই দেখছে এনসিপি। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোয় আবহ তৈরি হয়েছে। ভয়ের পরিবেশ নাই। যে কারণে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
