ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় হাইওয়েতে ওপরে ঝকঝকে ফ্লাইওভার। আর নিচের অংশ যেন ভাগাড়। কি নেই সেখানে? ময়লা-আবর্জনা, বাস-ট্রাকের স্ট্যান্ড, বিচিত্র দোকানপাট সবই আছে। এমনকি দখল হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা ও ফুটপাত।ভুক্তভোগী নগরবাসীরা জানান, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় তাদের। মাঝে মাঝে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও আবার দখল নেয় তারা।গাজীপুর মহানগরীর বাইপাস, চৌরাস্তা ও ইসলামপুর, কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়কের যানজট কমাতে নির্মাণ করা হয় নাওজোড় ফ্লাইওভার। তার কারণে উপরে যানবাহনের গতি বাড়লেও নিচের সড়কের চিত্র পাল্টায়নি বরং দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।ফ্লাইওভারের নিচের ফুটপাতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করা কথা থাকলেও এখন যেন তা ভাগাড়। অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিচিত্র ধরনের দোকানপাট। জামা-জুতা, কাঠের ফার্নিচারের দোকান যেমন আছে, তেমনি চায়ের দোকানসহ নানা পণ্যের পসরাও আছে ফ্লাইওভারের নিচের অংশে।সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ধারঘেঁষে অটোরিকশার উপর ভ্রাম্যমাণ দোকানীরা বিভিন্ন ধরনের ফলমূল-সবজির পসরা সাজিয়েও বিক্রি করছেন। এছাড়াও সড়কে আবর্জনার ভাগাড় আর ভাসমান লোকজনে ঠাসা। যানবাহনের অঘোষিত স্ট্যান্ডও চোখে পড়ে।সড়কের পাশে রাখা সারি সারি কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, সিএনজি, অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি। চলে মেরামতের কাজও। এমনকি নষ্ট বাসও ফেলে রাখা হয় এই সড়কের ওপরে। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের উপায় নেই। ফুটপাতও বেদখল।এসব কারণে ইসলামপুর, কড্ডা ও গাজীপুর বাইপাস সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। যারা এগুলো দখল করে রেখেছে তারা স্থায়ী প্রভাবশালী, রাজনীতিক নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ব্যাপারে গাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি নাসির উদ্দিনের সাথে মহাসড়কের ফুটপাত ও রাস্তা থেকে টাকা উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাওজোড় ফ্লাইওভারের নিচের ফুটপাত ও রাস্তা থেকে দোকান বসিয়ে ওখান থেকে আগে টাকা-পয়সা নিতাম। কিন্তু এখন নেতায় নিষেধ করায় কয়েকদিন যাবত আমরা ওখান থেকে আর টাকা উঠাই না। তবে শুনেছি ওখান থেকে এখন টাকা উঠিয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশসহ বিভিন্নজনকে দেওয়া হচ্ছে’ বলে জানান তিনি।গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বিশাল এলাকা জুড়ে হওয়াতে সব থেকে নজরদারি রাখার সম্ভব হচ্ছে না। তবে আপনি যে এলাকার কথা বলছেন এ বিষয়ে আমরা এখনই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও মাঝে মধ্যেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে থাকি।’তবে এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘মহাসড়কের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বা রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুতই ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও নাওজোড় ফ্লাইওভারের নিচের ফুটপাত ও রাস্তা দখলের বিষয়টি আমি দেখতেছি।’তবে অতি দ্রুতই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ফুটপাতগুলো চলাচলের উপযোগী না থাকলে ফ্লাইওভারে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করেন নগরবাসী।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
