পদ্মা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগ কাটেনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের বানভাসি মানুষের মধ্যে। এখনও অনেক বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি জমি পানিতে নিমজ্জিত। পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো পরিবার। কাজকর্মে ফিরতে না পারায় বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ও গড়গড়ি ইউনিয়নের প্রায় ২,৪০০ পরিবার এখনও পানিবন্দী। আতারপাড়া, কালিদাসখালি, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিরপুর, লক্ষ্মীনগর, আশরাফপুর, খানপুর গুচ্ছগ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রামে দেখা দিয়েছে খাদ্য, সুপেয় পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।আতারপাড়া গ্রামের সুমন হাওলাদার জানান, পানি কিছুটা কমলেও তাদের ঘরে এখনো হাঁটু পানি। মাঝে মাঝে ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। একই গ্রামের মহিদ ঢালী, ইব্রাহিম হাওলাদার, মাদার ব্যাপারী, জবলু কাজি বলেন, ‘বৃষ্টি থামলেই পানি নামে, আবার বেড়ে যায়। ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’চকরাজাপুর ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদার বলেন, আতারপাড়া গ্রামে শতাধিক পরিবার এখনো পানিবন্দী। কোথাও কোথাও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের এলাকায় সহায়তা করা হয়েছে।কালিদাসখালি গ্রামের চান মিস্ত্রী বলেন, ‘পানি কিছুটা কমেছে। কিন্তু কাজকর্ম না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’চাষাবাদে বড় ধস নেমেছে চরাঞ্চলে। বাতেন মোল্লা জানান, ৮ বিঘা জমির কাউন ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। জমি লিজ ও আবাদে ব্যয় হয়েছে লাখ টাকার বেশি।নারী সদস্য রুনিয়া খাতুন জানান, ‘ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। সব শেষ। কষ্ট করে ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বিঘা প্রতি ৪৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলাম।’চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশেপাশের ৫০টি পরিবার রয়েছে নদীভাঙনের হুমকিতে।৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সহায়তা খুবই সীমিত। পরে আরও ত্রাণ পেলে, বাদ পড়াদের সহায়তা দেওয়া হবে।’সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিন্নাত আলী জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।বিএনপি ও ছাত্রদল ৭০০ পরিবারকে চাল, ডাল, ময়দা এবং ৫০০ পরিবারকে শুকনো খাবার দিয়েছে বলে জানান জগলু শিকদার।খানপুর গুচ্ছগ্রামের তোহিদ ফকির জানান, সরকারিভাবে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, চিনি, লবণ, ১ লিটার তেল ও মসলা পেয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। চৌমাদিয়া গ্রামের ২২০ পরিবার ও খানপুর গুচ্ছগ্রামের ৮৫ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।পদ্মার পানি নামলেও চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসি মানুষ। কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাদ্য ও কাজের সংকট। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এখনও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
