পঞ্চগড়ে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ দুই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তেল উত্তোলন ও বিক্রিতে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিপো থেকে উত্তোলিত পরিমাণের চেয়ে লক্ষাধিক লিটার বেশি তেল বিক্রির প্রমাণ মিলেছে, যা চুক্তির শর্ত ভঙ্গের পাশাপাশি প্রচলিত আইনকেও লঙ্ঘন করছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে দেবীগঞ্জ পৌরসভার আব্দুলপুর এলাকার মেসার্স রাঙ্গা ফিলিং স্টেশন ও কালিগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স শাহনেওয়াজ ফিলিং স্টেশন। প্রতিষ্ঠান দুটি যমুনা অয়েল কোম্পানির নির্ধারিত ডিপো থেকে যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করেছে, তার তুলনায় অনেক বেশি তেল বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে বগুড়া ডিভিশনাল সেলস অফিসের নথি ও প্রতিষ্ঠান দুইটির নথি পর্যালোচনা করে।তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মেসার্স রাঙ্গা ফিলিং স্টেশন পেট্রোল উত্তোলন করেছে ৪৯ হাজার ৫০০ লিটার, কিন্তু বিক্রি দেখিয়েছে ৬৪ হাজার ৬০০ লিটার। একইভাবে, এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত মেসার্স শাহনেওয়াজ ফিলিং স্টেশন উত্তোলন করেছে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার পেট্রোল, অথচ বিক্রি করেছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৮ লিটার। বিস্ময়করভাবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো অকটেন উত্তোলন না করেও বিক্রি দেখিয়েছে ৪৪ হাজার লিটার অকটেন!এর আগে মাসিক বিক্রির হিসেব জানতে চাইলে প্রতিবেদকের প্রশ্ন এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুইটির কর্তৃপক্ষ। তবে নানা উৎস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদক বিক্রির প্রকৃত হিসাব সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, যেখানে স্পষ্টভাবে অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যমুনার ডিলাররা কেবলমাত্র যমুনা অয়েল কোম্পানির নির্ধারিত ডিপো থেকেই তেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্য কোনো বিপণন কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। সে হিসেবে উত্তোলনের তুলনায় অতিরিক্ত বিক্রি মানেই অন্য কোনো কোম্পানি থেকে তেল কেনা। ফলে চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে প্রতিষ্ঠান দুইটির তেল উত্তোলন বন্ধ করে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।এছাড়া, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক বিক্রির রেজিস্টার প্রকাশ্য স্থানে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠান দুটি সেই নিয়ম মানছে না। সাংবাদিক কিংবা সাধারণ কেউ তথ্য চাইলে তা সরবরাহ করা হয় না। ডিপো থেকে উত্তোলনের রেজিস্টার এবং দৈনিক বিক্রির হিসেব মিলিয়ে দেখলেই অতিরিক্ত বিক্রির বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আর এই অনিয়ম লুকাতে তথ্য প্রদানে অনীহা প্রতিষ্ঠান দুইটির।সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলেও প্রতিষ্ঠান দুইটি কেউই কথা বলতে রাজি হয়নি।এ প্রসঙ্গে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বগুড়া ডিভিশনাল সেলস অফিসের ম্যানেজার (সেলস) সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। তবে কোনো ফিলিং স্টেশন উত্তোলনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল বিক্রি করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনকে শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনে তাদের লিফটিং স্থগিত করা হবে।’যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ও কোম্পানি সচিব মাসুদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি প্রতিষ্ঠান দুইটির নাম দিন। আমরা যাচাই করে দেখব।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
