আজ বিশ্ব মানবতা দিবস। দুর্যোগ কিংবা প্রতিকূলতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবনের নিরাপত্তা দিতে যারা কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি দিতেই জাতিসংঘ ২০০৮ সালের ১৯ আগস্টকে বিশ্ব মানবতা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য- বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন।‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’—আজকের পৃথিবীতে ভূপেন হাজারিকার এই ভাবনা কতটা প্রাসঙ্গিক? যুদ্ধ, হানাহানি, সংঘাতে পূর্ণ এই বিশ্বে মানবতার অস্তিত্বইবা রয়েছে কতটুকু?বিশ্ব মানবিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবিকতা কেবল একটি অনুভব নয়, এটি একটি দায়িত্ব। এই দিনে মানুষকে উৎসাহিত করা হয় সহানুভূতিশীল, সহনশীল ও মানবিক হতে।যুদ্ধবিধ্বস্ত নগরীতে থেমে যায় গুলির শব্দ, কিন্তু থামে না স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ। আবার কোথাও ঝড়ের রাতে সব হারিয়ে নিঃস্ব জনপদ তাকিয়ে রয় একটু আশ্রয় আর খাবারের প্রত্যাশায়। কোথাও বা আগুনের হাত থেকে বাঁচার আকুতি আবার কোথাও ভবন ধসে থেঁতলে যায় শত শত প্রাণ।এত হাহাকার আর অবিচারের ভিড়ে কিছু মানুষ এগিয়ে আসে এই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোকে বাঁচাতে, এগিয়ে আসে তাদের জীবনকে কিছুটা সহজ আর নিরাপদ করতে। হানাহানি, বিভাজন আর স্বার্থের ভিড়ে কিছু মানুষ আজও বাঁচে মানবিক মানুষ হয়ে, যারা ছড়িয়ে দেয় মানবতার বার্তা।মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির বলেন, ‘এক দল ভাঙচুর করে; জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়, আর অন্য দল ঠিকই সহযোগিতা করে। যারা সহযোগিতা করে, সেটাকেই আমরা উদ্যাপন করতে চাচ্ছি। যারা ধ্বংস করে, তাদেরকে দিয়ে সব মানুষকে মূল্যায়ন করবো না।’বিশ্ব মানবতা দিবস আমাদের স্মরণ করায় মানবিক সহায়তার কথা, জাগ্রত করে মানবতাবোধ, যা হয়ে যায় অসুন্দরের বিপরীতে সুন্দরের দৃষ্টান্ত।ইতিহাসবিশ্ব মানবিক দিবস পালনের পেছনে রয়েছে একটি করুণ ঘটনা। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। ওই হামলায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত সার্জিও ভিয়েরা দে মেলোসহ ২২ জন জাতিসংঘ কর্মী নিহত হন। এই ট্র্যাজেডির স্মরণে এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তায় নিযুক্ত কর্মীদের স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘ ২০০৮ সালে ১৯ আগস্টকে বিশ্ব মানবিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে মানবিক কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
