গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক জুড়ে সম্প্রসারিত সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের প্রায় দুই হাজার খুঁটি, যা নগরবাসীর জন্য এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।সড়ক প্রশস্ত করা হলেও এসব খুঁটি না সরানোর কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক ও রিকশা। তবে বিশেষ করে রাতের বেলায় আলো স্বল্পতায় এই খুঁটিগুলো অনেক সময় চোখে পড়ে না, আর তাতেই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।ইতোমধ্যে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকেই। বড় কোনো ট্র্যাজেডির আগে খুঁটিগুলো না সরানো হলে ঘটতে পারে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা।এসব খুঁটি অপসারণ করে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এ পথের যাত্রী ও চালকরা।সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী আবু জাফর বলেন, ‘এই সড়কের মাঝ বরাবর বিদ্যুৎ লাইনের হাজারো খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এতে প্রতিদিনই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন।’আর একারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অতি দ্রুত এগুলো অপসারণের দাবি জানায়।অপরদিকে অটোরিকশাচালক আব্দুল আলিম বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হয়, কখন জানি বিদ্যুতের খুটি বা তার আমাদের গাড়ির উপর পড়ে যায়।’এই নিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে মাঝে যানবাহন চালাতে হয়। রাস্তা থেকে যদি বিদ্যুতের খুটিগুলো সরিয়ে দেয়া হতো, তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো।এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সড়কগুলোতে প্রায় তিন হাজার খুঁটি রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২০০ খুটি সরানো হয়েছে। বাকী খুঁটিগুলোও সরিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রোধ করা হবে বলে জানালেন গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার।তবে নগর উন্নয়নের নামে যদি নাগরিকদের জীবনই ঝুঁকিতে পড়ে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা টেকসই—এ প্রশ্ন নগরবাসী ও সচেতন মহলের।তাদের আরও দাবি, কোনো প্রাণ ঝরে পড়ার আগেই রাস্তার মাঝে এসব খুঁটি সরিয়ে ফেলতে হবে। গতি আনতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে। অন্যথায়, সড়কে নিরাপত্তা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
