ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৪৪ জন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় দুই বছরে ইসরায়েলি গণহত্যামূলক অভিযান ও অবরোধের জেরে সৃষ্ট ক্ষুধা ও অনাহারের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৪ জনে । মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরী — এবং এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত — গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েল এ শহর দখল করে হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক দক্ষিণে তথাকথিত কনসেন্ট্রেশন জোনে সরিয়ে নিতে চায়। শুধু সোমবার ভোরেই গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ১৪ জন ছিলেন সাহায্যপ্রত্যাশী। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের দৈনিক আপডেটে সোমবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ জন নিহত এবং ৩৪৪ জন আহত হয়েছেন। যার ফলে মোট আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনাহার ও অপুষ্টিতে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজায় উদ্ধার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন অথবা রাস্তায় পড়ে আছেন তবে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ এবং সরঞ্জামের অভাবে জরুরি দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।এছাড়া, মানবিক সাহায্য নিতে গিয়েও ইসরাইলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। গত ২৪ ঘন্টায় এই ধরনের হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ২৮১ জন আহত হয়েছেন।এদিকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজযুম জানিয়েছেন, “গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে অব্যাহতভাবে হামলা চলছে। হামলার মাত্রা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েলের বর্তমান কৌশল গাজার ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দিচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল ভারী কামান, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করছে বাকি আবাসিক বাড়িগুলো ধ্বংস করার জন্য। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ভয়াবহ। এই সামরিক কৌশলই বলে দিচ্ছে যে ইসরায়েল সহজে স্থল অভিযান চালাতে পারবে এবং আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।এদিকে সামান্য আশার আলো দেখা দিয়েছে। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির খসড়া মেনে নিয়েছে হামাস। আল জাজিরাকে এক সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি হবে এবং গাজায় আটক রাখা ইসরায়েলি বন্দিদের অর্ধেক ও ইসরায়েলের কারাগারে আটক একাংশ ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হবে।তবে ফিলিস্তিনিরা আগেও বহুবার এমন আশার ভরসায় প্রতারিত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মার্চে ইসরায়েল ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই এই যুদ্ধ প্রবেশ করেছে মানবিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে।প্রসঙ্গত,২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা। এদিন ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। নতুন করে শুরু করা এই অভিযানে ১০ হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৪ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
