চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত সায়েদ আলম প্রঃ সাঈদ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে বেরিয়ে এসেছে হত্যার পেছনের কারণ ও নৃশংসতার বিবরণ।আজ রবিবার (১৭ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম।পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট মামলার অন্যতম আসামি মো. ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার না করলেও মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে ইমামের শ্বশুর মো. জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে মামলার অগ্রগতি ঘটে। এরপর ১৫ আগস্ট র্যাব-১১ নোয়াখালীর চাটখিল থেকে পলাতক আসামি শাকিল (২১) কে গ্রেফতার করে।২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জোরারগঞ্জ থানার সোনা পাহাড় এলাকার পাদদেশ থেকে খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আট দিন আগে নিখোঁজ হওয়া সায়েদ আলম প্রঃ সাঈদের লাশ বলে পরিবার শনাক্ত করে। নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে ডিএনএ পরীক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে অগ্রগতি আসে।আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শাকিল জানায়, নিহত সায়েদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকলেও পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সায়েদ তাকে চুরির অপবাদে মারধর করেন এবং তার শিশুপুত্রকে আটকে রেখে শ্বাশুরীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে।জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ইমামের ডাকে সায়েদ আলম খামারে গেলে মাদক সেবনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় শাকিল পিছন থেকে ধারালো রামদা দিয়ে আঘাত করলে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইমাম হোসেন গলা কেটে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশ বস্তায় ভরে সোনা পাহাড় এলাকায় ফেলে দেয়া হয়।জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তাদের জবানবন্দি ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
