গত বছর আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব ছাড়েন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পরবর্তীতে সংস্থাটির দায়িত্ব পেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। তবে ৯ মাস দায়িত্ব পালনের পর তাকেও সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক টেলিভিশন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশোতে ফারুককে বিসিবি থেকে সরানো নিয়ে মুখ খোলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, ক্রিকেটের চেয়ে কীভাবে পরবর্তী বিসিবি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া যায়; সেদিকেই বেশি মনোযোগ ছিল ফারুকের। আর সেজন্যই তাকে বিসিবি সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বিপিএলে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জন্যও উপদেষ্টা দায় দিয়েছেন ফারুককে। ফারুকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘ভালো’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ক্রিকেটকে ব্যর্থতার হাত থেকে বাঁচাতে বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।এবার ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিসিবি’র সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পরামর্শেই বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন তিনি। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারুক বলেন, ‘ওনার (ক্রীড়া উপদেষ্টা) অফিস থেকেই তখন আমাকে নির্বাচনের জন্য “গো এহেড” দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আমি নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের কোনো সমস্যা নেই, আমি যেন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিই। পরে হয়তো তারা উপলব্ধি করেছে, আমি তাদের স্বার্থ দেখব না। তাই সরিয়ে দিয়েছে।’নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ক্রীড়া উপদেষ্টার কার্যালয়ের ‘পরামর্শ’ পাওয়ার পর ফারুকও প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘হুট করে তো নির্বাচন করা যায় না! আমাকে আগে কোথাও থেকে কাউন্সিলর হতে হবে। সে জন্য একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাজেই আমি যদি নির্বাচন নিয়ে কারও সঙ্গে সলাপরামর্শ করিও, সেটাকে অন্যায় বলা যাবে না। কারণ, কাউন্সিলর না হলে আমি নির্বাচন করতে পারব না।’তবে তাঁর দাবি, ‘এটুকু নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি—বোর্ড সভাপতি থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমি কাউকে বলিনি যে আমার একটা ক্লাব লাগবে বা আমাকে কাউন্সিলর করুন।’বিপিএল বিতর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফারুক বলেন, ‘এই দায় কেন একা আমাকে নিতে হবে? টুর্নামেন্ট চলাকালে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা কতটা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
