মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যুদ্ধ শেষ করা। কারণ রাশিয়া একটি বড় শক্তি। শুক্রবার আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে পুতিন বারবার ইউক্রেন থেকে আরও ভূমি দাবি করেছেন। খবর রয়টার্সের।পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট সীমান্তের বেশিরভাগ জায়গায় যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে রাজি, তবে এর বিনিময়ে কিয়েভকে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। যদিও জেলেনস্কি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।বর্তমানে রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে দোনেৎস্ক প্রদেশের তিন-চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত, যা প্রথম ২০১৪ সালে রুশ বাহিনী দখল শুরু করেছিল।ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম মার্কিন-রাশিয়ার মধ্যে এটিই শীর্ষ বৈঠক। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরাসরি একটি শান্তিচুক্তি, শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়।এদিকে সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও তারা ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।ট্রাম্প ও পুতিনের আলোচনায় ভূখণ্ড ছাড় ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও কথা হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, তবে ইউক্রেনকে রাজি হতে হবে। তার ভাষায়, “একটা চুক্তি করতে হবে। রাশিয়া খুব বড় শক্তি, আর তারা নয়।”অন্যদিকে, জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভূখণ্ড ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ ইউক্রেনের সংবিধানে পরিবর্তন না করে তা সম্ভব নয়। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর জোর দেন, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়া আরেকবার আক্রমণ করতে না পারে।ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, আলোচনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো ইউক্রেনের জন্য ন্যাটো অনুচ্ছেদ ৫–এর ধাঁচে একটি যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা তৈরি করা। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইউক্রেন আক্রমণের শিকার হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অংশীদার দেশগুলো সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য থাকবে।পুতিনও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ রোধ ও নতুন শর্তগুলোতে তিনি কোনও ছাড় দেননি।এদিকে, ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বলেন, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি চলে এসেছে, তবে রাশিয়ার হামলা থামা পর্যন্ত চাপ বজায় রাখা হবে। আবার প্রভাবশালী কূটনীতিক ভল্ফগ্যাং ইশিঙ্গার বলেন, এই বৈঠক “পুতিনের জন্য ১-০” জয়।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
