শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টা ১৬ মিনিট। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি রোগীদের চাপ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসকের চেয়ার খালি। পাশে সেবকের (নার্স) চেয়ারে বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছেন একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট। অভিযোগ উঠেছে, জরুরি বিভাগের মতো অন্যান্য বিভাগের মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টরা চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করছেন। চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত শর্ট স্লিপেও তারা ভুল ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছেন। ফলে চিকিৎসাসেবায় দেশসেরা হাসপাতালটি সুনাম হারাচ্ছে।হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত দিনে ৬ মাসের জন্য প্রশিক্ষণের জন্য প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট রফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, কাজী শারজিউর রহমান, তহমিনা খাতুন, শোয়েব আক্তার, হাবিবুর রহমান, সাকিব ও আনতারা সামিয়া লিখিত আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে আনতারা সামিয়া ছাড়া অন্যদের ট্রেনিংয়ের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। ফলে তারা হাসপাতালে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উল্লিখিত মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টরা হাসপাতাল ছেড়ে যাননি। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসকের ভূমিকায় রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত চিকিৎসক জোবায়ের হোসেনের চেয়ার ফাঁকা রয়েছে। পাশে নার্সের চেয়ারে বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছেন এক যুবক। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট। ভর্তির অপেক্ষায় থাকা এক রোগীর স্বজন মতিয়ার রহমান জানান, রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাঘারপাড়া হাসপাতাল থেকে রোগী যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ব্যবস্থাপত্র লেখার বিষয়ে মতিয়ার দুঃখ প্রকাশ করেন।গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন নাজিম নামে এক রোগী। তিনি ১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসকের কক্ষে যান। এসময় দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার কানিজ ফাতেমা রোগীর প্রেসক্রিপশনে আলট্রল সিরাপ লিখে দেন। কিন্তু সেখানে থাকা একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ডাক্তারের স্বাক্ষরিত শর্ট স্লিপে লিখে দেন ক্যাপসুল হিস্টাসিন। অথচ হিস্টাসিন নামে কোনো ক্যাপসুল হয় না। হবে ট্যাবলেট হিস্টাসিন।গত ১০ আগস্ট হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের ১২২ নম্বর কক্ষে বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছিলেন রফিকুল ইসলাম নামে একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট। অথচ তিনি চিকিৎসক নন। রফিকুলের মতো অনেকেই ৬ মাসের জন্য সরকারি এ হাসপাতালে মাঠ প্রশিক্ষণে (ফিল্ড ট্রেনিং) এসেছিলেন। ট্রেনিংয়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেও তারা হাসপাতাল ছাড়েননি। তারা প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে চিকিৎসকের কক্ষে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকরা নিজেদের ওপর রোগীর চাপ কমাতে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টদের ব্যবহার করছেন। ডাক্তারের প্রশ্রয়ে তারা রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেয়ার সাহস দেখাচ্ছেন। ফলে রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবার আশায় সরকারি হাসপাতালে এসে ফিরছেন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে।এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ডাক্তারের অধীনে কাজ করে। সাধারণত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ, ডাক্তারের নির্দেশিত চিকিৎসা প্রদানে সহায়তা করা। সরাসরি রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারবেন না। রোগীর স্লিপে ভুল ওষুধের নাম লেখা দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জরুরি বিভাগে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টের কাছে দায়িত্ব ফেলে যাওয়া চিকিৎসককে শোকজ করা হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
