কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হওয়া বাংলাদেশী সেই ৫ জেলে এখনো ফেরত আসতে পারেনি। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে চলছে কান্নার রোল ও শোকের আহাজারি। অপহৃত ৫ জেলে হচ্ছে- সাবরাং ইউনিয়নের অন্তর্গত শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াছের দুই পুত্র আক্কল আলী ও নুর হোসেন, কালু মিয়ার পুত্র সাবের হোসেন এবং নুর হোসেনের পুত্র সাইফুল ইসলাম। তবে এই ৫ জেলের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক, বাকী দুইজন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে শাহপরীর দ্বীপ জনগোষ্ঠীর মাঝে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানায় স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘নাফ নদী থেকে ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরটি শুনার পর সে দিন সাথে সাথে দেশীয় জলসীমায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছিল। আশা করছি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে জেলেরা ফেরত আসবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নদী ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া বেশিরভাগ জেলে মাছ শিকার করতে করতে মিয়ানমারের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে। এরপর সেদেশের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে আটক হন।’ তারই ধারাবাহিকতায় এই ৫ জেলে দেশীয় জলসীমা অতিক্রম করে মাছ শিকার করতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি জলসীমা অতিক্রম না করতো, মিয়ানমার সংশ্লিষ্ট বাহিনীর এমন কোন ক্ষমতা নেই ছেলেদেরকে অপহৃত করার। উক্ত বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সতর্ক থাকা জরুরী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, স্থানীয় জেলেরা গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছিলেন গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে নাফ নদীতে মাছ শিকারে গিয়েছিল ৫ জেলে। এসময় হঠাৎ করে স্পীড বোট যোগে এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৌকাসহ ৫ জেলেকে অপহৃত করে নিয়ে গেছে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সদস্যরা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
