বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীরা স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে হাসপাতাল কর্মচারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হন।বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১ টায় কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভ করে গোটা হাসপাতাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন কর্মচারীরা। এতে আন্দোলনকারী ও অনশনকারীরা অনেকটা সটকে পড়েছেন। এরপর হাসপাতালের কর্মচারীরা প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনকারীদের দাবি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে শেবাচিমের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিলে আন্দোলনকারীদের সাথে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শেবাচিম হাসপাতালের ৯ কর্মচারী ও আন্দোলকারীরে ১১ সহ প্রায় ২০ জনের মত আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে এক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, ১৭ দিন ধরে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে বরিশালে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালের প্রদান ফটক আটকে ছাত্র-জনতার ব্যানারে এই আন্দোলন চলমান থাকায় আমাদের রোগী নিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। আজ আন্দোলনকারী ও হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে মারামারি দেখে হাসপাতালের রোগীকে নিয়ে এখন থাকতে ভয় হচ্ছে।অপরদিকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একাধিক স্টাফরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলাকালীন সময় ছাত্ররা আমাদের কটুক্তি করে দালাল বলায় তাদের ধাওয়া করা হয়। এসময় অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনকারীরা দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছে।সরজমিনে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র সহ হাসপাতালের কর্মচারীদের হাতে আটক হলে পরে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন রনি মোবাইল ফোনে জানান, তাদের ওপর হামলা হয়েছে, তবে কর্মসূচি এখনও চলমান রয়েছে।হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডেরিয়াল জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির উভয়পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হাসপাতালের সকল স্টাফরা খুব ভয়ের মধ্যে কাজ করছে। আজ একটি মানববন্ধন ছিল। সেখানে থেকে ছাত্র-জনতা সরে গেছে।’বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেল্লাল হোসাইন বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আন্দোলন করা ছাত্র-জনতা ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে সেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।’বর্তমানে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১৮ দিন ধরে ছাত্র-জনতা দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভ মিছিল ও বরিশাল অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। এর আগে বুধবার গত ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরিশালে এসে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে বরিশালের সব রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাতে আশ্বস্ত হয়।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
