তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল)। এর ফলে কারখানায় উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৪৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও একই বেতন স্কেলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সিইউএফএলের শ্রমিক ও কর্মচারীরা।আজ বৃহস্পতিবার (১৪ই আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটকের সামনে সিইউএফএল শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি হয়। এসময় কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা সব কর্মচারীর জন্য একই বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, পে-কমিশনভুক্ত শ্রমিকদের মতো ৫% প্রণোদনা এরিয়া ও ১৫% বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুত প্রমোশনে উচ্চতর গ্রেড ও লাম্পগ্রান্ট প্রদানের দাবি শ্রমিকেরা তুলে ধরেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, একই কারখানায় ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো চালু থাকায় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ কারখানার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি শ্রমিক ও টেকনিশিয়ানদের ওপর নির্ভরশীল।সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম, সহসভাপতি হারুনুর রশীদ, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম মজুমদার, সিইউএফএল এমপ্লয়িজ ক্লাবের সভাপতি ফরিদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘জাতীয় মজুরি কমিশন থেকে জাতীয় বেতন কমিশনে স্থানান্তর করলে করপোরেশনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। বিসিআইসির অধীন সব টেকনিশিয়ান ও অপারেটরকে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি।’উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল থেকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সিইউএফএলের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অথচ একই অঞ্চলের কাফকো কারখানা নিয়মিত ৪২-৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে। সিইউএফএল চালু রাখতে প্রতিদিন গড়ে ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।কারখানা সচল থাকলে প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া ও ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব হয়। শ্রমিকদের ভাষায়, এতে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার উৎপাদিত হতো।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
