ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে গ্রেফতারের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদুরোর অবস্থান বা গ্রেফতারে সহায়তা করলে দেওয়া হবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এই ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, মাদুরো আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল মেশানো কোকেন পাচারে সরাসরি জড়িত।বন্ডির বলেন, ‘মাদুরো বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী। তিনি ভেনেজুয়েলার অপরাধ গোষ্ঠী ট্রেন দে আরাগুয়া, “কার্টেল অব দ্য সানস” এবং মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছেন।’এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ১৫ মিলিয়ন ডলার, পরে বাইডেন প্রশাসন তা বাড়িয়ে করে ২৫ মিলিয়ন। এবার আবার ট্রাম্প শিবিরে থাকা পাম বন্ডির ঘোষণায় তা ৫০ মিলিয়নে দাঁড়াল।পুরস্কার বৃদ্ধির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বন্ডি জানান, ‘এখন পর্যন্ত মাদুরো-সংশ্লিষ্ট ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত জেট, বিলাসবহুল গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কোকেন।’বন্ডির এ ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল। টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দুর্নীতির মুখ ঢাকার জন্য তৈরি করা একটি নাটক। জেফরি এপস্টিন কেলেঙ্কারি থেকে মনোযোগ সরাতেই এই পুরনো চাল আবার খেলা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় মর্যাদা বিক্রির পণ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এসব রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা আমরা ঘৃণা করি।’যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একটি রাষ্ট্রীয় মাদক চক্র পরিচালনা করেছেন—যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়েছে।এই অভিযোগের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান হুগো কারভাখাল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। কারভাখাল এক সময় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৩ সালে তাঁকে স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরো ফের ক্ষমতায় আসেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেশ কিছু ল্যাটিন আমেরিকান দেশ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।সূত্র: আল-জাজিরাআরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
