চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় গাছের কারণে রক্ষা পেয়েছে ঈগল পরিবহনের মিনিবাসে থাকা যাত্রীরা।বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীহাটের উত্তরে আন্ধার মার দরগা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।দ্রুতগামী মিনিবাসটি একটি ভটভটিকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে একটি বড় গাছে আটকে গিয়ে বাসটি খালে পড়া থেকে রক্ষা পায়। এতে প্রাণহানি না ঘটলেও কয়েকজন যাত্রী আহত হন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈগল পরিবহনের মিনিবাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। চট্টগ্রাম শহরের শাহ আমানত সেতু নামক এলাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সাতকানিয়া অতিক্রমের সময় হঠাৎ সামনে থাকা একটি ধীরগতির ভটভটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।বাসের যাত্রী রিয়াজ বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। হঠাৎ একটা ধাক্কা, তারপর বাসটা হেলে পড়ে যায়। মুহূর্তেই লোকজন চিৎকার শুরু করে। আমি ভাবছিলাম আমরা খালেই পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ থেমে গেল — পরে দেখি গাছে আটকে গেছি। হয়তো ওই গাছটা না থাকলে কেউ বাঁচত না।’দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বাসের জানালা ও পেছনের গ্লাস ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনা হয়। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আহতদের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঈগল পরিবহনের বাসগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত গতি নিয়ে চলাচল করে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ এসব বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।খোরশেদ নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘প্রতিদিন এ এলাকায় ঈগলের বাসগুলো সাঁই সাঁই করে চলে যায়। ওদের চালকরা যেন মহড়া দেয়। আজকের দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ।’খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।সময়ের কণ্ঠস্বরকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
