সপ্তাহ জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদ। বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করছে পানি। ভেসে গেছে অসংখ্য ঘের ও পুকুরের মাছ। পানিতে তলিয়ে আছে পৌর শহরসহ গ্রামীণ জনপদের অনেক সড়ক। আউশ চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মৌসুমি সবজি ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা। বন্ধ হয়ে গেছে ছোট নৌযান চলাচল। পটুয়াখালী পৌর বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, ‘ছোট ড্রেনেজ দিয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় তাদের এলাকার অধিকাংশ বাসা-বাড়ি এক থেকে দেড় ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।’ একই তথ্য জানান গলাচিপা পৌর শহরের বাসিন্দা সোহাগ রহমান এবং কলাপাড়া পরিসরের বাসিন্দা মিসবাহউদ্দিন। নীলগঞ্জের কৃষক সাইফুল বলেন, ‘আউশের জন্য প্রস্তুতকৃত মাঠে বীজ রোপণ করতে পারছেন না।’ একই এলাকার সবজি চাষী এলেম গাজী বলেন, ‘ক্ষেতে পানি জমে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। এতে গোড়া আগলা হয়ে গাছে পচন ধরে মরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’ তবে বিগত দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। যেখানে টানা সপ্তাহ জুড়ে ২০০ মিলিমিটারের অধিক পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে গত দশ দিন ধরে বেশ উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। এতে করে মৌসুম শুরু হলেও মাছ শিকারে যেতে পারছেন না পটুয়াখালী উপকূলের প্রায় সহস্রাধিক ট্রলারের প্রায় দুই হাজার জেলে। ফলে ব্যস্ততা স্থলে বলা চলে কর্মহীন নীরবতাই বিরাজ করছে দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের আড়ৎ আলীপুর-মহিপুর। কক্সবাজার ফিসের মালিক মনির বলেন, ‘সাগর ঢাকায় জেলেরা সাগরে মাছের কথা যেতে পারছে না। ঘাটে বসে অলস সময় পার করছে। ফলে দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের মোকাম আলিপুরে মহিপুরে মাছের আমদানি একেবারেই কমে গেছে।’ মৌসুমে আবহাওয়ার এমন প্রতিকূলতায় হতাশ ব্যবসায়ী ও জেলে। জেলে সাইফুল জানান, ‘মৌসুমের সময় ঘাটে বসে থাকায় তাদের খরচ বেড়ে চলছে। এতে তাদের ঋণের বোঝাও বাড়ছে।’ এদিকে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মাছধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
