যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চালকেরা দাপটের সঙ্গে অবৈধ ওই স্ট্যান্ড পরিচালনা করছেন। এতে হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।জানা গেছে, হাসপাতালে বিপদে পড়া মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে চালকেরা বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিতে সরকারি হাসপাতালের মধ্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড তৈরি করেছেন। বিগত দিনে প্রশাসন একাধিকবার স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করলেও প্রভাব খাটিয়ে আবারো স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়। বেসরকারি মালিকদের ব্যবসা চাঙ্গা রাখতে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সরকারি হাসপাতাল চত্বরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্ট্যান্ডে।সরকারি এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনের জায়গা দখল করে অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। বেসরকারি একাধিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স সেখানে রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডকে ঘিরে একটি চক্রের অর্থবাণিজ্য চলছে। স্ট্যান্ডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালে রোগী ও স্বজনেরা চলাফেরায় নানা সমস্যায় পড়েন। ওই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ নানা ধরনের অভিযোগ শোনা যায়।সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতালে যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ড, লাশকাটা ঘরসহ জরুরি বিভাগের আশপাশে ঘোরাফেরা করে থাকে খরিদ্দার সংগ্রহের জন্য। এতে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া এখানে সব সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সেবিকা ও রোগীর স্বজনেরা আসা-যাওয়া করেন। এলোমেলো অ্যাম্বুলেন্স রাখার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।সূত্র জানায়, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে সরকারি হাসপাতালের জায়গা দখলে নিয়ে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড তৈরি করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে। ওই স্ট্যান্ডে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যোগ করতে হলে সিন্ডিকেট প্রধানদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয় এককালীন। টাকা না দিলে ওই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সুযোগ পায় না কেউ। অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে সিন্ডিকেটের সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা লাভবান হচ্ছেন। আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কেননা হাসপাতালে বিপদে পড়া মানুষদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়ার টাকা আদায় করা হচ্ছে।সূত্রটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে সরকারি জায়গায় বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স রাখা বন্ধ করতে পারেন কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা করছেন না। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হোক।এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালে যত্রতত্র বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স না রাখার জন্য চালকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স উচ্ছেদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
