শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক যেন পরিণত হয়েছে এক মরণফাঁদে। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহনের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষের চলাচল থাকলেও বছরের বেশিরভাগ সময় সড়কটি থাকে বেহাল। খোঁড়াখুঁড়ি, খানাখন্দ, পানি জমে থাকা আর ড্রেনেজ সমস্যায় সড়কের একাধিক অংশ রীতিমতো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।বিশেষ করে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এবং বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। প্রায় প্রতিদিন নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণও হারান অনেকেই। এই সড়কটির বেশিরভাগ অংশই খানাখন্দ থাকায় ভারী পরিবহন গুলো অকেজো হয়ে সড়কটির উপর উল্টে পড়ে যাচ্ছে আবার অনেক গাড়ির গর্তে পড়ে আর উঠতে পারছে না। আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় ভোগান্তি যেন এই পথের চলাচলকারীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অন্যদিকে, চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ যেন এই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরু হয়ে যাওয়া রাস্তায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অনেক সময় আধাঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লেগে যাচ্ছে দুই ঘণ্টারও বেশি।পোশাকশ্রমিকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের কারখানাগুলোতে যেতে হয় ভেজা পোশাকে, হাঁটতে হয় পানিতে ডুবে থাকা ফুটপাত দিয়ে। এতে প্রায়ই আহত হচ্ছেন কেউ না কেউ। শুকনো মৌসুমে এই সড়ক পরিণত হয় ধুলার রাজ্যে। ফলে নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন স্থানীয়রা।পরিবহন চালকেরাও আছেন আতঙ্কে। তারা জানান, এই সড়কে গাড়ি চালানো মানেই যেন ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে ফেরা। যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারিনা। একটা আতঙ্কে থাকি এই বুঝি গাড়ি উল্টে যাবে। এক বাস চালক বলেন, সড়কে দিয়ে আমাদের রীতিমতো বিপদে পড়ে গাড়ি চালাতে হয়। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানি জমে থাকায় এই সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। আধাঘণ্টার সড়ক অনেক সময় দুই ঘণ্টাতেও পৌঁছানো যায় না।এ অবস্থায় দুর্ভোগে পড়ছেন চাকরিজীবীরাও। নাছির নামের এক বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির কারণে বাইপাইল ও জামগড়া সড়কে চলাচল অনুপযোগী হয়ে গেছে। যার ফলে যানজট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। আমরা ঠিক সময়ে অফিসে যেতে পারি না।বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) রেজওয়ান বলেন, বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অবস্থা একদম নাজেহাল। প্রতিনিয়তই এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে।এই রাস্তার বড় বড় গর্ত খানাখন্দভরা।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের লোকেরা এসে কিছু রাবিস দিয়ে গর্ত পূরণ করে আবার বৃষ্টি এসে পূনরায় গর্তে পরিনত হয়।আমরা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের ভোগান্তি দুর করার চেষ্টা করি।বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) রেজওয়ান বলেন, ‘বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলায় রাস্তাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্মাণকর্মীরা মাঝে মাঝে কিছু গর্তে রাবিশ ফেললেও তা টেকে না, বৃষ্টিতে আবার আগের অবস্থা ফিরে আসে। আমরা বৃষ্টিতে ভিজেও মানুষের ভোগান্তি দুর করার চেষ্টা করি।’ এ বিষয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
