মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সার্বভৌম যেকোনো দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় পণ্যে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। বাড়তি ২৫ শতাংশের ফলে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হলে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রশাসনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা (ট্রাম্পের) অনেক বিবৃতির কথাই শুনছি, যেগুলো আসলে হুমকি। বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা এই বিবৃতিগুলিকে বৈধ এবং ন্যায্য বলে মনে করছি না।তিনি আরও বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি যেকোনো সার্বভৌম দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী এই বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক বোঝাপড়া হয়ে থাকে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পেসকভের বক্তব্যে সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ না থাকলেও ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া যে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ভারতের পাশে অবস্থান নিয়েছে, তা স্পষ্ট।এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের তোয়াক্কা না করেই রাশিয়া সফরে গেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৃহস্পতিবার তাঁর রুশ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ভারত বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এমনকি ডোভালের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।এদিকে শুল্কবিষয়ক টানাপোড়েনের মধ্যেই চীন সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চাপের মুখে ভারত-চীন ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেলে তা নতুন এক ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
