বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখন একটি নজিরবিহীন আইনি সংকটের মুখে। ইউরোপের বর্তমান ও সাবেক প্রায় এক লাখ পেশাদার ফুটবলারের পক্ষ থেকে ফিফার বিরুদ্ধে বহু বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এ দাবিটি উত্থাপন করেছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন ‘জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স’, যেটির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন সাবেক ইংল্যান্ড সহকারী কোচ ফ্রাঙ্কো বালদিনি। দ্য গার্ডিয়ান২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (সিজেইইউ) রায় দিয়েছিল যে, ফিফার প্রচলিত ট্রান্সফার নিয়ম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা আইন ও শ্রমিকদের স্বাধীন চলাচলের অধিকারের পরিপন্থী। এ রায়ের ভিত্তিতে এখন ফিফার পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও ডেনমার্কের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বিরুদ্ধেও ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হচ্ছে।জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স দাবি করছে, ২০০২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যেসব খেলোয়াড় ফিফার ‘অবৈধ’ ট্রান্সফার নিয়মের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। স্বাধীনভাবে পরিচালিত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংস্থা কম্পাস লেক্সিকন জানায়, এসব খেলোয়াড় গড়ে ৮% বেশি আয় করতে পারতেন যদি এসব নিয়ম না থাকত। এই ভিত্তিতে দাবির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে বহু বিলিয়ন পাউন্ডে।মামলাটি নেদারল্যান্ডসের মিডেন নেদারল্যান্ড জেলা আদালতে দায়ের করা হচ্ছে। ডাচ আইন অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যে কাজ করা যেকোনো ব্যক্তি এ ধরনের দাবি করতে পারেন, ফলে মামলার আওতা অনেক বিস্তৃত।এই আইনি যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল চেলসি ও ফ্রান্সের সাবেক মিডফিল্ডার লাসানা দিয়ারার ঘটনা থেকে। ২০১৬ সালে তিনি বেলজিয়ান ক্লাব শারলোয়ে-তে যোগ দিতে চাইলেও, ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্লাব লোকোমোটিভ মস্কোর সঙ্গে চুক্তিভঙ্গের কারণে ফিফা তাকে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (আইটিসি) দেয়নি। উপরন্তু, তাকে ১০.৫ মিলিয়ন জরিমানা ও ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পরে ইউরোপীয় আদালতে মামলা করে তিনি রায় জিতে যান।এখনও পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। যদিও তারা নিয়মে কিছু সংশোধন এনেছে, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো এখনো তা পুরোপুরি মেনে নেয়নি।ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এফএ) এখনও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে তাদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদেরও তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।এই মামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রখ্যাত আইনজীবী জ্যাঁ-লুই দ্যুপঁ, যিনি ১৯৯৫ সালের ঐতিহাসিক বসম্যান কেস-এ জয়লাভ করেছিলেন। সেই মামলার পর ইউরোপীয় ফুটবলে খেলোয়াড়দের ফ্রি ট্রান্সফারের পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। এবারও তেমন একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
