পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দির দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কিন্তু বিক্ষোভের আগে রাতভর অভিযান চালিয়ে দলের অন্তত ১২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সোমবার (৪ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে অন্তত ১২০ জন পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান সবচেয়ে বেশি হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে। তবে পিটিআইয়ের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারী বলেন, ‘লাহোরেই ২০০ জনের বেশি কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই দমন-পীড়ন দেখেই বোঝা যায়, সরকার জনগণের কণ্ঠস্বরকে কতটা ভয় পায়।’ইমরান এই আন্দোলনকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পিটিআইয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় কারাবন্দি ইমরান খান বলেন, ‘দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র না আসা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’জানা গেছে, এরই মধ্যে এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে লাহোরসহ বেশ কয়েকটি শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এদিকে পাঞ্জাব সরকারের মুখপাত্র উজমা বুখারী পিটিআইয়ের কার্যকলাপকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজনীতি করলে কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক দলের ছদ্মবেশে ছাড় দেওয়া হবে না।’প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পদচ্যত হন তিনি। এরপর একাধিক মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দী হন ইমরান। ২০২৪ সালে দেশটির জাতীয় নির্বাচনে কারাগারে থেকেও সবচেয়ে বেশি আসন জেতে পিটিআই–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দলটির অভিযোগ, ব্যাপক কারচুপি করে তাদের আরও অনেক আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।সূত্র: রয়টার্স আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
