হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোকসজ্জায় বৈষম্যের অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, প্রধান ফটক, শহীদ মিনার, টিএসসির পাশাপাশি শুধুমাত্র একটি অনুষদকে গুরত্ব দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয় প্রশাসনিক ভবন, শহিদ মিনার, প্রধান ফটক, টিএসসি ও কৃষি অনুষদ ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে। এরপর গতকাল শনিবার (২/০৮/২৫) থেকে আলোকসজ্জার কাজ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি একাডেমিক ভবনের মধ্যে আলোকসজ্জা করতে দেখা গেছে শুধুমাত্র কৃষি অনুষদের ভবনকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক ভবন কাজী নজরুল ইসলাম ভবন, ড. কুদরত-এ-খুদা ভবন ও ডিভিএম ভবনসহ আবাসিক হলগুলোকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কৃষি অনুষদ ভবনে আলোকসজ্জা করায় বৈষম্যের অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফিউল ইসলাম আনাম নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, কৃষি অনুষদের আবাসিক অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু ফিস্টের আয়োজন করা হোক। বাকি অনুষদের শিক্ষার্থীরা ফিস্ট চাইনা আমরা। কৃষি অনুষদের সিনিয়র, ব্যাচমেট, জুনিয়ররা কিছু মনে কইরেন না, আপনাদের কিছু বলিনি। প্রকাশ্য বৈষম্যের জন্য সিস্টেমকে বলেছি।মশিউর রহমান নামে আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, কৃষি অনুষদ ভবন যেমন কৃষি স্টুডেন্টদের কাছে আবেগের জায়গা তেমনি ফিশারিজ, সিএসই, বিএস, সাইন্স, সোশ্যাল সায়েন্সের কাছে নজরুল ভবন আবেগের জায়গা, আবার ডিভিএম ভবন আছে। এইসব দ্বিচারিতা বন্ধ করুন। আপনারা বক্তব্যেই শুধু বৈষম্যহীনতার বুলি আওড়ান।প্রতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ কোন আয়োজন হলে শুধুমাত্র একটি অনুষদকেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকে। প্রশাসনিক বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কৃষি অনুষদের শিক্ষকরা আছেন বলেই এমন বৈষম্য বলে মন্তব্য করেন তারা। তবে অনুষদভিত্তিক কোন বৈষম্য নয় বরং বাজেট স্বল্পতা এবং ক্যাম্পাসের সম্মুখে অবস্থান করার কারণেই শুধুমাত্র কৃষি অনুষদকে আলোকিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান। তিনি বলেন, আলোকসজ্জাটি কৃষি অনুষদকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। এটি মূলত প্রধান ফটক, জুলাই ৩৬ সড়কসহ সম্মুখভাগে অবস্থান করার কারনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। আমাদের বাজেট স্বল্পতা রয়েছে, যেকারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সব ভবনে আলোকসজ্জা করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। হলফিস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
