কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই প্রতিরোধে এক রাতের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন মামলার ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ সদস্যরা। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।রবিবার (৩ আগস্ট) রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুহাদ রুহানি।গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীরা হলেন: সবুজ (২৩), হেলাল (২৫), নাঈম (২৩), রায়হান (২০), আরাফাত (৩৩), ওসমান (১৮), সোহেল মিয়া (২৮), মো. ফুল মিয়া (৩৬), হৃদয় (২৫), রনি মিয়া (৩২), বিল্লাল মিয়া (২০), সানি (৩৩), বিজয় (২৮), সুমন (২০), মাহিন (২১), নামিন (২০), মনির হোসেন (২৮), ফরহাদ (২৫), আকাশ (৩২), গোলাম মোস্তফা (৪২), জনি (২৬), দুলাল (৪৫)।জানা যায়, ভৈরবে ব্যাপক হারে চুরি ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় ভৈরববাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২ আগস্ট শহরের স্থানীয় জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড় এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে ভৈরব থানা পুলিশের জন্য থানায় শাড়ি ও চুড়ি নিয়ে হাজির হয় বিক্ষুব্ধ জনতা।স্থানীয় জনতা ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিলে পরে থানা পুলিশ ছিনতাই প্রতিরোধে আশ্বস্ত করে স্থানীয় জনতাকে থানা থেকে বিদায় করেন। এ ঘটনার পর থেকে থানা পুলিশ রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভৈরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেন।আরো জানা যায়, ২ আগস্ট শনিবার সকাল পৌনে ৬টায় দিনের আলোয় জনসম্মুখে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া একটি পরিবার। অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা দিতে সকাল ৬টায় ঢাকাগামী তিতাস ট্রেনে যেতেই পৌর কবরস্থানের সামনে ছিনতাই কবলে পড়ে পরিবারটি।এসময় তাদের আহত করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ছয় সদস্যের ছিনতাই চক্রের সদস্যরা। পরে ভুক্তভোগীররা সকালে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এএসআই ফরিদ তালুকদার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। থানায় প্রতিকার না পেয়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী অসুস্থ বাবার ছেলে ফারদিন খান। পরে ভৈরবে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জের ধরে বিকাল চারটায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ভৈরবের ছাত্র ও যুব সমাজের নেতাকর্মীরা।এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি খন্দকার ফুহাদ রুহানি বলেন, ভৈরবে চুরি ছিনতাই বেড়েছে তা অস্বীকার করা সুযোগ নেই। কিন্তু ভৈরব থানা পুলিশ প্রতিদিন কোন না কোন চুর ছিনতাইকারী গ্রেফতার করছে। তবে তারা বেশি দিন কারাগারে থাকে না। সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে।রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলায় ২৩ জন আসামী গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও চিহ্নিত ছিনতাইকারী রয়েছে। ২ আগস্ট স্টেশন এলাকায় ছিনতাই ঘটনার ১ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আটককৃত ছিনতাইকারীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিয়মিত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
