লক্ষ্মীপুরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের বছর না যেতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ দিয়ে পড়ছে পানি। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চতুর্থ তলার শ্রেণি কার্যক্রম।এমনটি ঘটেছে জেলার কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমিতে। বিদ্যালয়ের ৪তলার ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে শ্রেণি কক্ষ ভিজে যাচ্ছে। এছাড়া ব্যাঞ্চ, ফ্যান ও দেয়াল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিম্নমানের পানির পাম্প, বৈদ্যুতিক বাতি, সুইচ, বোর্ড ও তার ব্যবহার করায় এসবের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুতের সুইচ চাপলে আঙুল ভিতরে ডুকে যায়। এতে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।এদিকে তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পানির পাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর অভিযোগ করলে ঠিকাদার তা ঠিক করে দেয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার সেটি নষ্ট হয়ে যায়। বাথরুমগুলো ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন স্কুল প্রধানগণ। বাথরুমের পানি ভিতরে না গিয়ে বাইরে চলে আসছে, যার কারণে বাথরুমের প্রবেশ পথে ও বারান্দায় নোংরা পানি জমে থাকে। অধিকাংশ জানালায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছাদের টাইলসগুলো খুলে পড়ে যাচ্ছে। কাঠের দরজাগুলোও ঠিকভাবে লাগানো যাচ্ছে না।জানা যায়, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪তলা বিশিষ্ট ২টি নতুন ভবন নির্মাণ করে লক্ষ্মীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০১৮-২০১৯ সালে অর্থ বছরে এ কাজের টেন্ডার হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পান মেসার্স এমএস লুৎফুর ট্রেডার্স। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার কথা। কিন্তু কাজ শেষ করতে সময় লাগে ৫ বছরের বেশি। স্কুল দুটির মাঝে তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমির ভবন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানকে ভবন দুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোঃ আমানত উল্যাহ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘১ বছর পূর্বে আমাদের নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মাঝে ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। সবগুলো জানালায় মরিচা ধরেছে। বিদ্যুতের বোর্ড ও সুইচগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সুইচ চাপলে আঙুল ভিতরে ডুকে যাচ্ছে। পিলারের সিমেন্ট বালি খসে পড়ছে। পানি পড়ে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাকা নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না।’ তারা আরও বলেন, ‘সাইড ইঞ্জিনিয়ার সবুজ মজুমদার ও মঈনুল হক কাজের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সবুজ মজুমদার নিয়মিত আসতেন না। উপ প্রকৌশলী সবুজ মজুমদার এর গাফিলতির কারণে মূলত এমন নিম্নমানের কাজ করতে পারছে ঠিকাদার।’তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শাহজাহান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের শুরুতে দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন সবুজ মজুমদার। তিনি ঠিকমতো আসতেন না। নিয়মিত কাজের তদারকি না করায় ঠিকাদার তার মনমতো কাজ করেছে। বছর না পেরুতেই চার তলার ছাদ ছুঁয়ে শ্রেণি কক্ষে পানি পড়ছে। ছাদের টাইলসগুলো খুলে পড়ে যাচ্ছে। ওয়াশরুমগুলোর পানি ভিতরে না গিয়ে বাইরে বারান্দায় আসছে এবং পানি নিচে জমা হয়ে থাকে। আমি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।’হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমির প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনও সময়ের কণ্ঠস্বরের সাংবাদিকের কাছে একই অভিযোগ করেন।ঠিকাদার এমএস লুৎফর সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘নিম্নমানের জিনিস দিয়ে কোন কাজই করা হয়নি। যে গুলো নষ্ট হয়েছে বৃষ্টি বাদল কমলে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।’উপ সহকারী প্রকৌশলী সবুজ মজুমদার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘আমি কাজের শুরুর দিকে ভবন দুটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলাম। চার তলার ছাদ ডালাইয়ের পর আমি লক্ষ্মীপুরে চলে আসি। এখন যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এগুলো আমার সময় হয়নি। আমি চলে আসার পর আমাদের মঈনুল হক এর দায়িত্বে বাকি কাজগুলো হয়।’আব্দুর রহিম, ইলেকট্রিক অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিক) সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানছি। ঠিকাদারের এখন বিল বাকি রয়েছে। খোঁজ নিয়ে এগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।’শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্তী সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি। ঠিকাদারের জামানত এখনো দেয়নি। যেসব অভিযোগ আসছে সেগুলো ঠিকাদারের মাধ্যমে ঠিক করে দেওয়া হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
