ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১৩ নং উত্তর চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও চলাচলের রাস্তাটি পানিতে ডুবে রয়েছে। জলাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ফলে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।রোববার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদ বিল্ডিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয় মাঠসহ প্রবেশের রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যালয়ের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে মোট ৩১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকার কারণে অনেক শিশু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহারা বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের বিদ্যালয়ে মাঠে হাঁটু সমান পানি হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার স্কুলে প্রবেশ করার সময় আমার পা পিছলে গিয়ে পানিতে পড়ে যাই। তাতে আমার বই-খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পরে আমি বাড়িতে চলে যাই। সেদিন আর বিদ্যালয়ে আসিনি। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীই প্রতিনিয়ত স্কুলে আসার সময় বিদ্যালয়ের সামনে পানিতে পড়ে গিয়েছে। পানির কারণে অনেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন বলেন, ‘প্রতিদিনই হাঁটু সমান পানি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাছাড়া মাঠে পানি থাকায় আমরা কোনো খেলাধুলা করতে পারি না। আমরা এ পরিবেশ চাই না। পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে খেলাধুলা করতে চাই। আমাদের বিদ্যালয়ে রাস্তা ও মাঠ ভরাট করার দাবি জানাচ্ছি।’বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রাফির বাবা রফিক সিকদার জানান, ‘আমার ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমি সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়—কখন যে পানিতে পড়ে যায়, কে জানে। আমার মতো অনেকেই এই চিন্তায় থাকে। আমরা অভিভাবকরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মাঠ ভরাট করার দাবি জানাচ্ছি।’বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগম বলেন, ‘পানির কারণে শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না। বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথে এবং বের হলেই পানিতে নামতে হয়। অনেক বাচ্চারা পা পিছলে বাই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছে। যার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিষয়টি বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার হিসাবে দায়িত্ব থাকা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহাদাত হোসেনকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার হিসাবে দায়িত্ব থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহাদাত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘জরুরি কাজে বরিশাল এসেছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে। পরিদর্শনে যাবো।’উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি জানান, ‘এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
