লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক সাংবাদিকের স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার রহিমা বেগম এ ঘটনায় রায়পুর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।শুক্রবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মিয়ার বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই এলাকার প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আকাশ হোসেন (১৯), তার বাবা মো. মাসুদ রানা, মাসুদের স্ত্রী কুসুম বেগম, মাসুদের ভাবি শেফালী বেগম এবং আকাশের স্ত্রী লামিয়া আক্তার। তারা সবাই রায়পুর পৌরসভার দক্ষিণ কেরোয়ার জলিল মিয়া বাড়ির বাসিন্দা।রোববার (৩ আগস্ট) সকালে মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূইঁয়া।প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, তার স্ত্রী পৌর মহিলা দলের সহ-সভাপতি কুসুম বেগম ও ছেলে আকাশ হোসেন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রহিমা বেগমের ওপর হামলা চালান। বাম হাতে কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত। রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।রহিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী সৌদি আররে প্রবাসী সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। বিভিন্ন সময় মাসুদ রানার অপকর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরই জেরে মাসুদ রানা ও তার পরিবার এই হামলা করে। আমি সঠিক বিচার দাবি করছি। সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর ওপর হামলা হলেও এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। উল্টো আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ মাসুদ রানাসহ সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামুন সম্পর্কে আমার ভাতিজা। আমরা একই বাড়ির বাসিন্দা। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের সঙ্গে আমার ছেলে ও স্ত্রীর হাতাহাতি হয়। এখন তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।এ বিষয়ে রায়পুর থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূইঁয়া সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ভুক্তভোগী রহিমা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। আমরা তদন্ত করছি। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
