বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে ভয়াবহ ইঞ্জিন সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ২০টি ইঞ্জিনের ঘাটতি থাকায় বারবার ঘটছে ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা। এতে একদিকে যেমন শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে, তেমনি মাঝপথে যাত্রা থেমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। কখনো কখনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হচ্ছে।রেলওয়ে সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য ৭২টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন হয়। অথচ চলমান অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৩টি। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৯ থেকে ২০টি। বিশ্রাম ও রক্ষণাবেক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় সচল ইঞ্জিনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে এবং তা দ্রুত বিকল হয়ে পড়ছে।গত এক মাসে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ট্রেনের ইঞ্জিন মাঝপথে বিকল হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের একাধিক ট্রেনচালক। ফলে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি হচ্ছে।গত ১৮ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত মাত্র চারদিনেই বিকল হয়েছে ৬টি ট্রেনের ইঞ্জিন। এর মধ্যে ১৮ জুন পাহাড়তলী স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। বিকল্প ইঞ্জিন না থাকায় ওয়ার্কশপ থেকে মেকানিক এনে ইঞ্জিনটি মেরামত করতে হয়। একই দিনে তূর্ণা এক্সপ্রেস ও গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন যথাক্রমে ফৌজদারহাট ও হাসানপুর স্টেশনে বিকল হয়।পরদিন ১৯ জুন মন্দবাগ স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়। ২২ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন নষ্ট হয় এবং প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির যাত্রা ওয়াটার লিকেজের কারণে বাতিল করা হয়।চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের আরএনবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল হচ্ছে। এতে যাত্রীরা স্টেশনে বিক্ষোভ করেন। কিছুক্ষণ আগেও কক্সবাজারগামী একটি ট্রেন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’রেলওয়ের এক স্টেশন মাস্টার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, চট্টগ্রাম–সিলেট ও চট্টগ্রাম–জামালপুর রুটে সময়মতো ট্রেন ছাড়তে পারছে না। শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন নয়, তেলবাহী ও কন্টেইনার ট্রেনও সময়মতো চলাচল করতে পারছে না।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে পূর্বাঞ্চলে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন ইঞ্জিন আমদানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন রেলপথ নির্মাণ ও নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর কারণে ইঞ্জিনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। নতুন ইঞ্জিন পেলে এই সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।’ রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবিলম্বে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন ও পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে যাত্রীসেবা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
