তিন দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২০ শতাংশ। এ হ্রাসের ফলে এখন বিভিন্ন পণ্যে মোট শুল্কহার কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন হিসাব।যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ হওয়ায় রপ্তানি পণ্যে মূলত সাধারণ শুল্কহারই প্রযোজ্য হয়। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যার হার ছিল ৩৭ শতাংশ। নতুন সিদ্ধান্তে তা কমে হয়েছে ২০ শতাংশ।বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বাড়তি শুল্ক যুক্ত হওয়ার পর মোট শুল্কহার দাঁড়াচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি:১) পোশাক খাতে বর্তমানে গড় শুল্কহার ১৬.৭৭ শতাংশ। ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যোগ হলে তা দাঁড়াবে ৩৬.৭৭ শতাংশ।২) ম্যানমেইড ফাইবার সোয়েটারে আগের শুল্ক ছিল ৩২ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়াবে ৫২ শতাংশে।৩) তুলার সোয়েটারে শুল্ক বেড়ে হবে ৩৬.৫০ শতাংশ।৪) ছেলেদের আন্ডারপ্যান্টে শুল্ক ছিল ৬ শতাংশ, যা নতুন হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ২৬ শতাংশে।৫)যেসব পোশাকে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক ছিল, এখন দিতে হবে ২১ শতাংশ।পোশাক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জুতা রফতানিতে গত বছর কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে কার্যকর গড় শুল্ক দাঁড়াতে পারে ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই খাতে পণ্যভেদে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ শুল্কহার রয়েছে।১) জুতা রফতানিতে গড় শুল্কহার ছিল ৮.৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৮.৫০ শতাংশ।২) হ্যাটস ও হেডগিয়ার খাতে শুল্ক ছিল গড়ে ৭.৫ শতাংশ, যা হবে ২৭.৫০ শতাংশ।৩) চামড়াজাত পণ্যে গড় শুল্কহার ছিল ১২.২০ শতাংশ, বাড়তি শুল্কসহ তা দাঁড়াবে ৩২.২০ শতাংশ।এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতায় কিছুটা চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শুল্কহার ৩৭ থেকে ২০ শতাংশে নামায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলেছে রফতানিকারকদের মাঝে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
