রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতাদের আবাসিক হলে অবস্থান করা ৩ জন নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে আটক করে পুলিশ। ক্যাম্পাসের ছাত্র নেতাদের সহযোগিতা নিয়ে এসব নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র এবং আটক হওয়া ছাত্রলীগ নেতার জবানবন্দি থেকে জানা গেছে। আওয়ামী কৃষিবিদদের নেতা ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ক্যাম্পাসসহ আশপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের থেকে খবর নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা।এদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাইবার সেল থেকে দাবি করা হয় ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং সেগুলোর ছবিসহ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, মূলত গতবছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর বাংলাদেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বেশ কিছুদিন যাবত গুপ্ত নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ছাত্রলীগের নেতা পরশের নেতৃত্বে একটি গুপ্ত পরিকল্পনার ছক ফাঁস হলে গতরাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।আটক হওয়া উক্ত ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ হলেন- মীর আসাদ আল রহমান সায়েম, তৌফিক ই মওলা ও আল সাদি পিয়াল। তবে পরবর্তীতে খবর নিয়ে জানা যায় আটক হওয়া ৩ জন ছাত্রলীগ নেতার মধ্যে আল সাদি পিয়ালকে অদৃশ্য কারণে পুলিশ ছেড়ে দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এই পিয়ালকে ছাড়াতে কে তদবির বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন এবং উক্ত বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা শরিফ জানান, ‘আগস্ট মাসকে ঘিরে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ও ফ্যাসিস্টদের কিছু নেতা-কর্মী নিয়মিত জুম মিটিং করছে। পলাতক অনেকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে উঠেছে এবং হলে অবস্থানকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের চায়ের দোকানে নিয়মিত আড্ডা দেয় এবং ঢাকায় কোনো গোপন কর্মসূচি থাকলে হলে এসে অবস্থান করে। আমরা কয়েকদিন তাদের পর্যবেক্ষণ করি এবং বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহের মধ্যে দিয়ে নিশ্চিত হই যে তারা একত্রিত হচ্ছে এবং কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছে। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের রুমে যাই এবং প্রক্টরকে ফোন করি কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।’শেকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা পরশ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মসিউর রহমান হুমায়ূনের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্ত হামলা করার পরিকল্পনা করছে।আটকের পরে ছাড়া পাওয়া ছাত্রলীগ নেতা আল সাদি পিয়াল যুবদল নেতা কৃষিবিদ সানোয়ারের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়। আটক হওয়ার সময় দেওয়া এক ভিডিও জবানবন্দিতে যুবদল নেতার সহযোগিতার কথা স্বীকার করে এই ছাত্রলীগ নেতা।পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ে উপস্থিত ছাত্রদল নেতা শরিফ বলেন, ‘আমরা মূলত তিনজনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও পরবর্তীতে ২জনকে আটক দেখানো হয়েছে। কীভাবে একজন ছাড়া পেল তা আমরা অবগত নই।’এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অসি মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের পোস্টধারী ২জন নেতাকে শেকৃবি ক্যাম্পাসের ছাত্রদল নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের হাতে তুলে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মূলত বিভিন্ন ঝটিকা মিছিল এবং অপতৎপরতার অভিযোগ রয়েছে যা বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
