পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সুলতানা আক্তার রত্না হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে—বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করায় রত্নাকে হত্যা করেন তার প্রেমিক মহাদেব রায়।বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেতে রত্নার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।মরদেহ উদ্ধারের সময় রত্নার গলায় শ্বাসরোধের দাগ ছিল। তার সঙ্গে থাকা কাপড়ের ব্যাগে ছিল পরনের পোশাক ও মোবাইল ফোনের কাভার, যা হাতে ধরা অবস্থায় পাওয়া যায়।হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। রত্নার ঘর তল্লাশি করে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যাতে মহাদেবের সঙ্গে প্রেম ও তার সঙ্গে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।পরে রত্নার ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে তার কথোপকথন ও ঘটনার সময়কার অবস্থান বিশ্লেষণ করে পুলিশ।এর ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে একই ইউনিয়নের পুণ্ডিপাড়া এলাকার খোকা বর্মণের ছেলে মহাদেব রায়কে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, রত্না ও মহাদেবের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রত্না বিয়ের জন্য চাপ দিলেও মহাদেব বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে মহাদেবের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয় এবং তার আশীর্বাদ সম্পন্ন হয়। এতে রত্না ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। দুইজনের মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য।ঘটনার দিন একাধিকবার ফোন ও ম্যাসেজে কথা হয় দুইজনের। রাতে রত্নাকে দেখা করার জন্য বাইরে ডেকে পাঠান মহাদেব। সেখানে বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে রত্নাকে হত্যা করেন তিনি। পরে রত্নার মোবাইল ফোনটি নিয়ে তা ভেঙে ফেলে দেন বিভিন্ন স্থানে।দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সামুয়েল সাংমা জানান, পুলিশ দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।উল্লেখ্য, বুধবার দিবাগত রাতে (৩১ জুলাই) রত্নার বাবা রবিউল ইসলাম দেবীগঞ্জ থানায় মহাদেব রায়সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একইদিন সকালে মহাদেবকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
