প্রায় ১৮৫ বছরের সংরক্ষিত একটি বন মহিষের শিংসহ মাথার করোটি নওগাঁর পাহাড়পুর (সোমপুর) বৌদ্ধ বিহার যাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহল্লার অধ্যাপক (অবঃ) মো. ফজলুল হক নওগাঁর পাহাড়পুর যাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিমের নিকট এটি হস্তান্তর করেন। অধ্যাপক (অবঃ) ফজলুল হক জানান, নওগাঁর দুবলহাটীর রাজা রায় বাহাদুর হরনাথ রায় চৌধুরী সিলেটে জমিদারী ক্রয় করার পর তিনি তাঁর বিস্তৃত জমিদারী পরিদর্শন করার জন্য সিলেট যান। সেখানে তিনি অন্যান্য প্রাণীর সাথে একটি বন মহিষ শিকার করেন। সিলেটে কিছুদিন থাকার পর তিনি দুবলহাটী রাজ প্রাসাদে ফিরে আসার সময় শিকার করা বিভিন্ন প্রাণীর মাথার করোটি সাথে নিয়ে আসেন। সাথে নিয়ে আসেন এই বন মহিষটির মাথার করোটিও। পরবর্তীতে ১৮৯১ সালে তিনি প্রয়াত হলে তাঁর স্থলে তাঁর পুত্র রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী জমিদারী প্রাপ্ত হন। দুবলহাটীর শিকারপুরের শৈলকোপা গ্রামের জোতদার সাকিম উদ্দীন শেখের সাথে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী ১৯৩৫ সালের দিকে এই বন মহিষটির মাথার করোটি তাঁর ঘনিষ্ঠতম বাল্যবন্ধু সাকিম উদ্দীন শেখকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন। সাকিম উদ্দীন শেখের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আব্দুল গনি শেখ মহিষের মাথাটি সংরক্ষণ করছিলেন। আব্দুল গনি শেখের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অধ্যাপক মো. ফজলুল হক মাথাটি তাঁর সংগ্রহে রেখেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নওগাঁ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর যাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য কাস্টোডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজুর নিকট করোটিটি হস্তান্তর করেন। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার যাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘এই মহিষের করোটিটি আমাদের জন্য একটি প্রাপ্তি হল। এটি যাদুঘরের সংরক্ষণ করা হবে। দর্শনার্থীরা এটি দেখে অতীত ইতিহাস জানবে।’ এছাড়া তিনি নওগাঁর মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি এ ধরনের কোন বস্তু, পুরাকীর্তি নিদর্শন আপনাদের নিকট থেকে থাকে তাহলে আমাদের নিকট তথা পাহাড়পুর যাদুঘরে হস্তান্তর করার আহবান জানাচ্ছি।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
